বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় নগরী আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির সুন্নী বিদ্রোহীরা। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাতের জন্য তারা ২০১১ সাল থেকে সশস্ত্র লড়াই করে আসছে। মাঝখানে কিছুদিন লড়াই বন্ধ থাকলেও শুক্রবার থেকে আলেপ্পো দখলে অভিযান শুরু করে বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর জোট।
রবিবার সকালে আলজাজিরা জানিয়েছে, আলেপ্পো দখলের পর বিদ্রোহীরা দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। কোন কোন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে তারা হামা শহরের পৌছে গেছে। তবে আলজাজিরার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
শনিবার সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের কয়েক ডজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সেনাদের আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নিয়েছে বাশার আল আসাদের সরকার। তবে সরকারের সমর্থনে রাশিয়ার বাহিনী আলেপ্পোতে বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা শুরু করেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের আলেপ্পোর সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে। অনেক জায়গায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অনেক ট্যাঙ্ক ও সাজোঁয়া যানকে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিদ্রোহীদের সমর্থক নাগরিকরা নগরীতে বিজয় উল্লাস করেছেন।
বিদ্রোহী গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছে হায়াত তাহরির আল শাম, গোষ্ঠিটি এক সময় নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিলো। এছাড়া সিরিয়ান আরব আর্মি, সিরিয়ান ন্যাশনাল আমি, ফ্রি সিরিয়ান আর্মিসহ অনেকগুলো সংগঠন রয়েছে বিদ্রোহী জোটে।
বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর একটি সেনা ঘাঁটি দখলে নেয়ার দাবি করেছে। অন্য দিকে রাশিয়া বলেছে, তারা বিমান হামলা চালিয়ে ৩০০ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়া শাসন করছেন স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদ। আরব বসন্তের সময় তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু হলে কঠোর দমনপীড়ন চালায় তার পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এক পর্যায়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে বিরোধীরা। ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশারকে ক্ষমতায় টেকাতে সরাসরি মাঠে নামে রাশিয়া ও ইরান। রাশিয়া সরাসরি বিমান বাহিনী পাঠায়। আর ইরানের হয়ে যুদ্ধে যোগ দেয় হাজার হাজার ভাড়াটে মিলিশিয়া।
মাঝখানে বছর তিনের গৃহযুদ্ধ কিছুটা শান্ত থাকলেও তিনদিন ধরে বিদ্রোহীরা জোরালো অভিযান শুরু করেছে।
বিদ্রোহীরা মূলত সুন্নী মুসলমান। অন্যদিকে বাশার আল আসাদ শিয়া গোত্রভূক্ত। দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতা ধরে রেখেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে।




