কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের প্রহার নিষিদ্ধ: বেফাকের ঐতিহাসিক নির্দেশনা

জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষা, শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তা প্রদান এবং শিক্ষার সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে দেশের সর্ববৃহৎ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’। বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভীর স্বাক্ষরে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়— রাগের বশবর্তী হয়ে বা শাসনের নামে কোনো শিক্ষার্থীকে প্রহার, বিচার কিংবা অপমান করা যাবে না। পড়ালেখায় অমনোযোগী বা চঞ্চল শিক্ষার্থীদের শাসনের ক্ষেত্রে লাঠি, বেত, স্কেল বা অন্য কোনো বস্তু ব্যবহার সম্পূর্ণ বর্জনীয়। এছাড়া প্রকাশ্যে গালাগাল, কটু কথা বলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে শিক্ষকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে তা সক্রিয় রাখা, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর চরিত্র, নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করা এবং অতীতে শারীরিক নির্যাতন বা স্খলনে যুক্ত কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের যেকোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সাত দিনের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে ব্যবস্থা গ্রহণ, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সরাসরি বেফাকে অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন নম্বর (০১৭২৪-৬৩০৬৩২) চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে সতর্ক করে জানানো হয়, এসব নির্দেশনা অমান্য করে কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান শারীরিক নির্যাতন চালালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি ওই মাদ্রাসার ইলহাক বা বেফাকের সমমানের স্বীকৃতি স্থগিত কিংবা বাতিল হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top