শফিকুল ইসলাম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে বৃক্ষরোপণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাস্তবায়িত হলো ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫ হাজার ১৮৭টি ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। স্থানীয় ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমি মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার। শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি অন্তত একটি গাছ রোপণ করে এবং তার নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘শুধু চারা গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। গাছটিকে বড় করে তুলতে সঠিক সময়ে পানি দেওয়া ও নিয়মিত যত্ন নেওয়া অত্যাবশ্যক। আজ যে গাছটি তোমরা নিয়ে যাচ্ছ, সেটি নিজ হাতে বড় করার দায়িত্বও তোমাদের নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণই বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতিপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং তাদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে।
চারা বিতরণ আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আলাউদ্দিন মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী মৃধা এবং ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী।
এছাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান মুন্সি, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি শামীমুল ইসলাম শামীম, যুবদল নেতা বেল্লাল ফকির ও আসিফ আকবরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত শিক্ষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিতরণকৃত চারাগুলো শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ আঙিনায় রোপণ করে যথাযথ পরিচর্যা করবে।




