শেষ মুহূর্তের গোলে জয়, কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক

নানা নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচজুড়েই মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত গড়াবে লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর হয়নি। শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্পেন। ৯১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। এই জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করল স্প্যানিশরা।

ডালাসে ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, দুই দলই আক্রমণের ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে নিজেদের ভুল এড়িয়ে চলার দিকেই বেশি মনোযোগী। বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল স্পেন, তবে পর্তুগালের রক্ষণভাগ ছিল বেশ শক্তিশালী ও গোছানো।

ফলে মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবলের চেয়ে কৌশল ও ধৈর্যের লড়াইটাই বেশি চোখে পড়েছে। দুই দলই একে অপরের জায়গা বন্ধ করে রাখায় বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছিল না।

তবে ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগটি তৈরি করেছিল স্পেনই। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই বড় সুযোগ পায় স্পেন। মিডফিল্ডে বল কেটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। একাই বক্সে ঢুকে গোলমুখে শট নিলেও দারুণ প্রতিক্রিয়ায় বল ঠেকিয়ে পর্তুগালকে রক্ষা করেন ডিয়েগো কস্তা। এরপরই ডান প্রান্তে গতি দেখান লামিনে ইয়ামাল। তার নিখুঁত ক্রসে বক্সের মাঝখানে বল পৌঁছালেও কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড় না থাকায় সহজে বিপদমুক্ত হয় পর্তুগাল।

অষ্টম মিনিটে অবশ্য এগিয়েই যেতে পারত স্পেন। ওইয়ারসাবাল ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও তার নেওয়া শট সাইডবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়, ম্যাচের অন্যতম বড় মিস এটি।

এরপরই পাল্টা আক্রমণে আসে পর্তুগাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো শক্তিশালী শট নিলেও কর্নারের বিনিময়ে তা ঠেকিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। কিছুক্ষণ পরেই দুই দফা সেভ করে স্পেনকে রক্ষা করেন তিনি।

১৬তম মিনিটে আবারও স্পেনের আক্রমণে কাঁপে পর্তুগাল। ইয়ামাল ডিফেন্ডার কাটিয়ে বাঁ পায়ের শট নিলেও এবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ডিয়েগো কস্তা। ফিরতি বলেও অ্যালেক্স বায়েনার শট আটকে দেন এই পর্তুগিজ গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের শেষদিকে ৪১তম মিনিটে প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিল পর্তুগাল। কর্নার থেকে বল পেয়ে নুনো মেন্দেসের শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক বদলে ক্রসবারে লাগে। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় স্পেন।

সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউই, আর যোগ করা সময়েও কোনো গোল না হলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

বিরতির পর ৫৬তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় পর্তুগাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা নুনো মেন্দেস চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বদলি হিসেবে নেলসন সেমেদো নামলেও বাঁ প্রান্তে আগের মতো দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারেনি পর্তুগাল।

জয়ের আশায় ৭১তম মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও ক্যানসেলোকে তুলে মাঠে নামানো হয় রাফায়েল লেয়াও ও দিয়োগো দালোটকে। শেষ সময়ে আক্রমণে বাড়তি গতি এনে গোলের সন্ধানেই এই পরিবর্তন করেছিলেন কোচ।

৭৩তম মিনিটে দারুণ সুযোগ পায় স্পেন। ফ্রি-কিক থেকে লামিনে ইয়ামালের বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শট লক্ষ্যভেদী হলেও অসাধারণ দক্ষতায় তা কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। কর্নার থেকেও আর কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি স্পেন।

নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছিল না। ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল, লড়াইটি গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই বদলে যায় সব হিসাব।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই স্পেনকে এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো। সতীর্থের নিখুঁত পাস ধরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝের ফাঁকা জায়গায় দারুণভাবে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালের কোণে।

মেরিনোর এই গোলেই ম্যাচের পার্থক্য তৈরি হয়। শেষ কয়েক মিনিটে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সমতা ফেরাতে পারেনি পর্তুগাল। স্পেনের রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে জয় নিশ্চিত করে।

শেষ বাঁশি বাজতেই মেরিনোকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে হতাশ মুখে মাঠ ছাড়তে হয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও পর্তুগালকে। আরও একটি বিশ্বকাপের স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই বিদায় নিতে হলো পর্তুগিজ মহাতারকাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top