ক্রীড়া ডেস্ক
গোল হয়নি, কিন্তু উত্তেজনার এক মুহূর্তও কম ছিল না। গোলশূন্য ড্র যে কতটা রোমাঞ্চকর, উপভোগ্য এবং উচ্চমানের হতে পারে, তার অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকল কলম্বিয়া ও পর্তুগালের লড়াই। ড্রয়ের ফলে দুই দলই নিশ্চিত করেছে রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট। গ্রুপ ‘কে’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে উঠেছে কলম্বিয়া, আর রানার্সআপ হয়ে শেষ ৩২-এ পা রেখেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।
তবে ম্যাচটিতে রোনালদো ছিলেন অনেকটাই নিজের ছায়া হয়ে। বড় কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক। বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল দুই মিডফিল্ড শিল্পী—কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেস এবং পর্তুগালের ব্রুনো ফার্নান্দেজের হাতে। যদিও তাঁরা খেলার গতি ধীর করে ছন্দ তৈরির বদলে দুই দলকেই বারবার আক্রমণে ঠেলে দিয়েছেন। ফলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ছিল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এক মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী।
ইংল্যান্ড গ্রুপ ‘এল’-এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শেষ ৩২-এ এ দুই দলের যেকোনো একটির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতে পেরেছে। এই ম্যাচের মান ও তীব্রতা দেখার পর থ্রি লায়ন্স সমর্থকদের নিশ্চয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার যথেষ্ট কারণ আছে।
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বসবাসরত বিপুলসংখ্যক কলম্বিয়ান সমর্থকের উপস্থিতিতে গ্যালারির আবহ ছিল অসাধারণ। দুই দলের ইতিহাসে প্রথম দেখাটাই হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ। গোল না হলেও আক্রমণের কমতি ছিল না। পুরো ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে ৩৭টি শট। এর মধ্যে একাই কলম্বিয়া নিয়েছে ২৪টি, যা বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে রেকর্ড ১১তম ম্যাচ খেলতে নেমে হামেস রদ্রিগেস যেন ফিরেছিলেন ২০১৪ সালের সোনালি সময়ে। আক্রমণ নির্মাণে ছিলেন দুর্দান্ত। প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে তিনি সফলভাবে ৩৮টি পাস সম্পন্ন করেন। মাঠ ছাড়ার সময় পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালিতে তাকে সম্মান জানায়।
এখন নকআউটের অপেক্ষা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়া আগামী ৪ জুলাই কানসাস সিটিতে ঘানার মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে রানার্সআপ পর্তুগাল ৩ জুলাই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবে। এক দিন কম বিশ্রাম নিয়েই মাঠে নামতে হবে রোনালদোদের। তবে এই ম্যাচের পর একটি বিষয় স্পষ্ট—নকআউটে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল, দুই দলই হতে পারে বড় হুমকি।




