নারায়ণগঞ্জে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা জামায়াতের

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বারকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াত। আজ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে কর্মী সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির ও মেয়র প্রার্থী মাওলানা মো. আবদুল জব্বার। কর্মী সম্মেলন পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন।

আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জকে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই এখানে দরকার ভালো মানুষ। এমন মানুষের প্রয়োজন, যে আল্লাহকে ভয় করে এবং যার যে হক, তা তার হাতে পৌঁছে দেয়। আমরা সৎ নেতৃত্ব তৈরি করব, ইনশাআল্লাহ।’

আবদুল জব্বারের ব্যাপারে তিনি বলছিলেন, ‘তার চোখে ও স্বপ্নে মানুষের কল্যাণ। আগামীতে যাতে ভোট জালিয়াতি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নারায়ণগঞ্জবাসী সৎ ও যোগ্য মানুষকেই ভোট দেবে।’

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, ব্যাংক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে দলীয় লোক বসিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু দেশের জনগণ একদলীয় শাসনব্যবস্থা মেনে নেবে না। সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলত বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না।’ সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ‘আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না।’

নারায়ণগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কালো টাকা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইঞ্জিনিয়ারিং সবকিছুকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জে ১১-দলীয় জোটকে একটি আসনে জয়ী করেছেন। ভোট গ্রহণ যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছে, ভোট গণনা এবং ফলাফলও যদি সুষ্ঠু হতো, তাহলে বাকি আসনগুলোতেও জোটের বিজয় হতো। কারণ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বাসে, গাড়িতে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে—সব জায়গায় একই আওয়াজ উঠেছিল, দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা।’

জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে। এর মধ্যে গণভোটের পক্ষে প্রথমে বিএনপি ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিল, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেবেন।’ একবারই তিনি প্রথম এবং শেষবারের মতো একথা বলেছেন। এরপর জনগণ ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট দিল।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি এর কী মূল্য দিলেন? তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায়, সেজন্য একথা বলেছি।’ এটা লজ্জার। একটি সংগঠনের শীর্ষস্থান থেকে যদি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কীভাবে থাকবে? মানুষ কেন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করবে? আমরা সেই রাজনীতি করিনি, করবও না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top