বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে স্টোর রুমে আগুন

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেমিক্যাল স্টোর রুমে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. সেলিম। তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি শুধু ধোঁয়া উড়ছে। তবে আগুন এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে, আমাদের দুটি ইউনিট এখনো কাজ করেছে। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত চলমান।

তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য কেমিক্যালের সংস্পর্শে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত কর্মীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আহত ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা জানান, আগুনের সূত্রপাত হওয়া স্থানটি যে কেমিক্যাল স্টোর রুম ছিল, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আগে থেকে অবহিত করেনি। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় তারা কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে আহত হন।

তারা বলেন, যেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল সেটি যে কেমিক্যাল স্টোররুম, তা আমাদের জানানো হয়নি। কেমিক্যালের কারণে আমাদের ৫-৬ জন সদস্য আহত হয়েছেন। হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেমিক্যাল লেগে ক্ষত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর চিকিৎসা নিতে গেলে একজন চিকিৎসক শুধু একটি মলম লিখে দেন। সেটিও বাইরে থেকে কিনে ব্যবহার করতে হয়েছে। হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হওয়ার পরও আমরা যথাযথ চিকিৎসা পাইনি।

আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতাল কতৃপক্ষের কোনো  বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের নিচতলার স্টোর রুমে হঠাৎ করে আগুন দেখতে পান উপস্থিত রোগীর স্বজনরা। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করে এই স্টোর রুমের মধ্যে থাকে ধোয়া উড়তে দেখেন তারা। এরপরই দেখতে পান আগুনের লেলিহান শেখা। এতে রোগী ও রোগীর স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ উপর থেকে সিড়ি বেয়ে হাসপাতালের সামনে খোলা আকাশের নিচে চলে আসেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কেমিক্যাল সংরক্ষণ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ঢাকা পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top