বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
সৌদিতে হজকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মক্কায় প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ মুকিব আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন দেশটির আদালত।
জানা গেছে, গত ৯ মে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রবেশের সময় তাকে আটকের পর গত বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
আজ সোমবার (১৮ মে) অথবা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) তাকে পুনরায় আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুকিব আলীর আইনজীবী।
হজ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে চলতি বছর হজের সময় মক্কায় প্রবেশে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে সৌদি সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অর্থ জরিমানার পাশাপাশি নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি ছাড় দেওয়া হচ্ছে না সৌদি নাগরিকদেরও।
সৌদিয়ানসহ এ পর্যন্ত কয়েক শ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মক্কা পুলিশ। তবে এ সময় জরুরি প্রয়োজনে কেউ মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলে তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র নিয়ে তা করতে হবে।
মুকিব আলীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি মক্কায় প্রবেশের অনুমতিপত্র গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তার মোবাইলে এ সংক্রান্ত অ্যাপটি ইনস্টল করা না থাকায় এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মুকিব আলীকে আটকের সময় তার কাছে থাকা অনুমতিপত্রের কাগজ (হার্ড কপি) থাকলেও সেটিকে নকল অনুমতিপত্র বা ভুয়া হিসেবে সন্দেহ করে পুলিশ।
পরিবার আরও দাবি করেন, মুকিব আলী তার একজন ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশির মাধ্যমে অনুমতিপত্র নেন। সে ক্ষেত্রে অনুমতিপত্র নকল হলে এ জন্য ওই বাংলাদেশি ও সংশ্লিষ্ট সৌদি নাগরিক দায়ী। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে সহসাই যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে, তাই সৌদি আইন অনুযায়ী এ জন্য তিনিও দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন। এর ফলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং অন্তত ১০ বছরের জন্য সৌদিতে নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি।
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে জেদ্দা কনস্যুলেটসহ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কূটনৈতিক পর্যায়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আহমেদ মুকিব আলী সৌদি আরবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। ক্লিনিকসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে তার। তার এক ছেলের সঙ্গে সম্প্রতি এক সৌদিয়ান নাগরিকের মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ফলে দেশটিতে আলাদা একটি ভাবমূর্তি রয়েছে বলে দাবি করেন সৌদি বিএনপির নেতারা।
কিন্তু একটি মহল এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।




