বরাদ্দকৃত ত্রাণ গুদামে, খাদ্য সংকটে বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়

বরাদ্দকৃত ত্রাণ গুদামে, সংকটে বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশালের নদীভিত্তিক জীবনধারায় নির্ভরশীল মান্তা সম্প্রদায় আবারও অনিশ্চয়তার মুখে। সরকারিভাবে তাদের জন্য বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন হলেও, এখনো বিতরণ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ দিন আগেই পেরিয়ে গেলেও জেলা প্রশাসকের সময় মেলেনি, ফলে চাল পড়ে আছে গুদামে, সংকটে ক্ষুধার্ত মানুষ চোখে-মুখে অপেক্ষার ছাপ ।

বরিশাল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে নদীভিত্তিক জীবনযাপন করা প্রায় ৫০০ মান্তা পরিবারের একমাত্র জীবিকা মাছ ধরা।

কিন্তু তারা তালিকাভুক্ত জেলে না হওয়ায় ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞায় জাল ফেলা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। ফলে তারা খাদ্যসংকটে পড়েছেন। জেলে পেশায় যুক্ত থাকা ৩১৬টি পরিবারকে ত্রাণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু উত্তোলিত চাল এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি।

লাহারহাটের কমপক্ষে ১৫ জন মান্তা নারী-পুরুষ জানান, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক বিলম্বে তারা আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন।
মমতাজ বেগম, মালেকা বেগম, হাজেরা বেগমসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা নদীতে ভাসি, পেটে ভাতও ভাসে। চাল গুদামে উঠেছে, কিন্তু আমাদের মুখে যায়নি।’ চাল বিতরণে দেরির প্রতিবাদে ৭ অক্টোবর মুলাদীতে শতাধিক মান্তা নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন।

ঝালকাঠির রাজাপুরে ১৫০টি মান্তা পরিবার এলাকা ছেড়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ফিরে আসেন তারা।
মান্তা সম্প্রদায়ের অধিকাংশ সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নেই। টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়নের নরেরকাঠি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহাগ আকন জানান, তাদের ওয়ার্ডে দেড় শতাধিক মান্তা ভোটার থাকলেও গত নির্বাচনে ভোট দিতে পেরেছেন মাত্র ১০ জন। মৎস্য অফিস জানায়, নিবন্ধিত জেলেদের ৮০ শতাংশ চাল পেয়ে থাকেন।

তবে মান্তারা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করেন এবং শিক্ষার অভাবের কারণে জনপ্রতিনিধিরা তাদের তালিকাভুক্ত করতে অনাগ্রহ দেখান। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ থাকায় ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হলেও, সেই দিনও তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে বিতরণ থমকে আছে।
টুঙ্গীবাড়িয়া ইউপি সচিব মনিরুজ্জামান জানান, ১১ সেপ্টেম্বর চাল বরাদ্দ এলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিতরণের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। ১১০ বস্তা চাল ইউনিয়ন গুদামে জমা আছে, যা এখনো ১১০টি পরিবার পায়নি। চরবাড়িয়ার ৬৫টি, শায়েস্তাবাদের ২৬টি, চরমোনাইয়ের ১০৫টি, চরকাউয়ার ১০টি এবং টুঙ্গীবাড়িয়ার ১১০টি পরিবার ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও, তা এখনো কাগজেই সীমাবদ্ধ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মান্তাদের বেশিরভাগের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা সরকারিভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। বরাদ্দকৃত চালের সঙ্গে ডাল, তেলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ না আসায় বিতরণ বিলম্বিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top