বোরহানউদ্দিনে বিদ্যুৎ অফিসে হয়রানির শিকার গ্রাহকরা

 

মোঃ মিজানুর রহমান, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) : ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পিডিবি’র (ওজোপাডিকো) অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিটার প্রতি গ্রাহকদের কাছ থেকে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এ বিদ্যুৎ অফিসে বসে বেশি দামে গ্রাহকদেরকে বাধ্য করে মিটার বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে। এতে চরম ক্ষুদ্ধ হচ্ছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

উপজেলার একাধিক ওজোপাডিকো পিডিবি’র ভুক্তভোগি গ্রাহকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অফিসে কাগজপত্র দেয়ার পর কর্মকর্তারা মিটার প্রতি ব্যাংক খরচ বাবদ ৬ থেকে সাড়ে ৬হাজার টাকা করে নেয়। শুনছি ব্যাংকে জমা দেয়া লাগে শুধুমাত্র ২৫১০ টাকা ,বাকি টাকা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতিয়ে নেয়। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে নানা কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে অফিসে ঘুরতে হয়। এছাড়া এ অফিস থেকে অনেককে বাধ্য করেন বেশি দামে মিটার কিনতে।

তাদের অভিযোগ, অনেকে বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার ভয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে নিরবে এ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। অনেকে বলেন,  এর সাথে কর্মকর্তারা সহ অনেকে জড়িত রয়েছে। তারা আরও জানান, বর্তমান সরকার সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি আর অনিয়ম রোধে কাজ করছেন তাই আমরা এসকল অনিময় আর হয়রানী থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একভুক্তভোগী এক মহিলা বলেন, দুইটা মিটার এর জন্য অফিসে গেলে আলামিন স্যার ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। দুইটি মিটারে দুই হাজার টাকা কম দেয়ায় কয়েক দিন ঘুরাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন না। এতে আমরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। অফিসে আলামিন স্যারের কাছ থেকে দুইটা মিটার কিনে এনেছি। দোকানের চেয়ে দামও একটু বেশি নিচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ওজোপাডিকো আবাসিক প্রকৌশলী মো. রিয়াদ হোসেন জানান, মিটার প্রতি ব্যাংক খরচ ২৫১০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা। এর বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। কেউ অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলামিন এর বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আলামিন অফিসের বেতনভুক্ত কর্মচারী নয়, তবে গ্রাহকরা অনলাইনে আবেদন করলে সে শুধুমাত্র আবেদন ফি নিতে পারবে। এর বাইরে কিছু করলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অফিসে বসে মিটার বিক্রি’র বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসে মিটার বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই কেউ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে ভোলা বিদ্যুৎ সরবরাহ ওজোপাডিকো নির্বাহি প্রকৌশলী মো. ইউসুফ জানান, গ্রাহকরা অনলাইনে আবেদন করে ব্যাংকে নির্ধারিত টাকা জমা দেবে। এর বাইরে কোন টাকা লেনদেন করতে পারবে না। অফিসে কেউ মিটার বিক্রি করার তো প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সাথে যারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top