গৌরনদীতে সাতশো বছরের পুরনো ‘আল্লাহর মসজিদ’

 

মোঃ হানিফ সরদার, গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা

কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রামের আল্লাহর মসজিদ। তৎকালীন মুসলিম স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন এ মসজিদটির র্নিমাণকাল কিংবা ইতিহাস যুক্ত কোন শিলালিপি পাওয়া না গেলেও ধারণ করা হচ্ছে পঞ্চম শতাব্দীতে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)আমলে মসজিদটি র্নিমাণ করা হয়।

এটি দেখতে ঠিক অনেকটা বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের মতই দেখতে। মসজিদটি ঘুরে দেখা যায়, পাতলা ইট, চুন, শুরকি দিয়ে তৈরি মসজিদের র্দৈঘ্য-প্রস্থ ৩৮ ফুট, দেয়ালগুলো ৭ ফুট চওড়া। র্পুব দেওয়ালে ৩ টি দক্ষিণ ও উত্তর দেয়ালে একটি করে শিকরাকার সরু উঁচু খিলান যুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে। প্রবেশ পথের খিলানে গায়ে ফুল ও ডায়মন্ড অলংকরণ খচিত রয়েছে।পাশাপাশি চারদিকে ছাদ বরাবর র্কানিশ রয়েছে। নয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের অভ্যান্তরে চারটি স্তম্ভ রয়েছে, মসজিদের পশ্চিম দেওয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মাঝখানের মেহরাবটি আকারে বড়।

আল্লাহর মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদটি দেখার জন্য দুর দুরান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন ঘটে |এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা মনের বাসনা পুরণের আসায় মানত করে গরু, ছাগল, হাস ,মুরগি, মোমবাতি, আগরবাতি দিয়ে থাকেন | কেউ কেউ মসজিদে এসে নফল নামাজ আদায় করেন, আবার কেউ দীঘিতে গোসল করে ,কেউ কেউ এখানে এসে বাচ্চাদের মাথার চুল কাটেন ।

প্রত্মতত্ত্ব অধিদফতর মসজিদটি তত্ত্বাবধান করায় মসজিদের চারপাশে হাটার জন্য প্রশস্ত রাস্তা, মসজিদে র্পু্ব পাশে সুন্দর মাঠ ও দীঘি রয়েছে, দীঘিতে মুসল্লিদের অজু গোসলের জন্য রয়েছে ঘাট। মসজিদটি র্নিমাণের ব্যাপারে মসজিদের খাদেম বাবুল ফকির জানান,আমাদের পূর্ব থেকে শুনে আসছি প্রায় সাতশো বছর আগে হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে এসে এ মসজিদ র্নিমাণ করেন| এ ছাড়া নানা অলৌকিক কাহিনীর কথা প্রচালিত আছে এই মসজিদ নিয়ে। অনেকে বলেন, এ মসজিদ টি জ্বীন দ্বারা র্নিমিত হয়েছে, মসজিদের মাঝে চারটি খাম্বা রয়েছে এ খাম্বাদিয়ে তেল বের হয়, বছরের কোন এক সময় খাম্বাগুলো স্বাভাবিক অবস্থা থেকে চিকন হয়ে যায়- এমন কথা প্রচলিত রয়েছে।

নানা অলৌকিকতার জন্য মসজিদের নাম করা হয়েছে আল্লাহর মসজিদ। মরিয়ম নামের এক মহিলা তার পাঁচ বছরের মেয়ে নিয়ে এসেছেন একটি মোরগ, মোমবাতি ও আগর বাতি হাতে। এ প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি জানান, মানত ছিল- যাতে সংসারে আয় উন্নতি হয় , ছেলে-মেয়ে ভাল থাককে জন্য। এলাকার প্রবীণ আবদুল মন্নান জানান, আমরা ছোটবেলা মুরুব্বিদের সাথে যেতাম সেখানে দীঘিতে গোছল করতাম, মসজিদে সালাম কালাম করে তবারক খেয়ে চলে আসতাম। সেই থেকে দেখে আসছি বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জন এসে একই রকম দান-সদকা দিয়ে যায়|

ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার গৌরনদী ও টরকীর মাঝামাঝি স্থানে কসবায় মসজিদটির অবস্থান| উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আব্দুল্লাহ খান জানান, আমি কয়েকবার মসজিদটি পরিদর্শন করেছি , জায়গাটি অনেক সুন্দর যে কেউ গেলে তার ভালো লাগবে|

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top