তসবি আতর বই ছিলো সিনওয়ারের পকেটে

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি দাবি করেছেন, নিহত সিনওয়ারের কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার ইসরায়েলি মুদ্রা, অস্ত্র এবং নিরাপত্তা ভেস্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ কয়েকটি জিনিসের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, সিনওয়ারের সঙ্গে এসব জিনিস পাওয়া গেছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এতে রয়েছে একটি পাসপোর্ট, আল-আকসা মসজিদের ছবি সংবলিত দুটি বই, হাত ঘড়ি, নেইল কাটার, তজবিহ, মেন্টস চকলেট, একটি গুলি, আতর, স্কচটেপ এবং টুথপেস্ট সদৃশ্য কাগজের সবুজ বাক্স। তবে যে পাসপোর্টটি মিলেছে সেটি সিনওয়ারের নয়। এটি আরেক ব্যক্তির। যিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হয়ে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম। এই পাসপোর্ট সিনওয়ার কেন বহন করছিলেন সেটি নিশ্চিত নয়।

কোন কোন সূত্র বলছে, একটি একে-৪৭ রাইফেলও ছিলো তার কাছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তিন যোদ্ধার চলাচলের ভিডিও ধরা পড়ে ইসরাইলি ড্রোনের ক্যামেরায়। এরপর তাদের ওপর হামলা চালায় ইসরাইলি ট্যাংক ও ড্রোন। মনে করা হচ্ছে, সঙ্গী দুজন সিনওয়ারের বডিগার্ড ছিলেন। তারা সিনওয়ারকে নিরাপদ রাখতে চেষ্টা করেছেন।

হামলার পর তিনজনের মধ্যে দুজন একটি বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়েন, তৃতীয়জন পৃথক আরেকটি বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন। তারা সবাই আহত ছিলেন বলে দাবি করে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, দুই যোদ্ধার কাছ থেকে আলাদা হয়ে অন্যভবনে প্রবেশ করা যোদ্ধাটিই ছিলেন সিওনওয়ার। এরপর পাশাপাশি দুটি ভবনেই গোলা ছোড়ে ট্যাংক। এ সময় সিনওয়ার দ্বিতীয় তলায় উঠে যান। পদাতিক সেনাদের একটি দল ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে তিনি দুটি গ্রেনেড ছোড়েন, যার একটি বিস্ফোরিত হয় এবং সেনারা পিছু হতে বাধ্য হয়।

তারা ওই ভবনে ড্রোন পাঠিয়ে যে ভিডিও সংগ্রহ করেছে তাতে দেখা গেছে, প্রায় বিধ্বস্ত একটি ভবনে সোফায় বসে আছেন আহত একজন। তার মুখ ফিলিস্তিনি কেফিয়া দিয়ে ঢাকা। ড্রোনটির উদ্দেশ্যে তিনি একটি লাঠি ছুড়ে মারেন। ভিডিওতে তাকে আহত ও দুর্বল মনে হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তিই ছিলেন সিনওয়ার। এরপর আবারো ভবনে ট্যাংকের গোলা ছোড়া হয়। এবং তিনি নিহত হন। পরদিন সকালে সেনারা ভবন দুটিতে প্রবেশ করে তিনটি লাশ দেখতে পায়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেসব সেনা সিনওয়ারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন তারা জানতেন না ওই ব্যক্তি সিনওয়ার ছিলেন। হামলার পর সেখানে গিয়ে সিনওয়ারের মতো দেখতে এক ব্যক্তির লাশ খুঁজে পান তারা। এরপর পরিচয় নিশ্চিত হতে প্রথমে লাশটির আঙুল ও অন্য কিছু ডিএনএ ইসরায়েলে পাঠানো হয়। এরপর লাশটি উদ্ধার করা হয়। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, ইসরায়েলি সেনারা নিজেদের অজান্তেই সিনওয়ারকে হত্যা করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top