শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করেন সিনওয়ার

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছে ইসরাইলের সরকার ও সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের একটি বিধ্বস্ত ভবনে ইসরাইলি ট্যাংকের গোরায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করে আইডিএফ।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, একটি বিধ্বস্ত বাড়িতে কয়েকজন যোদ্ধার উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখানে হামলা চালায়। কয়েক দফা হামলা চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িটিতে প্রবেশ করে সেনারা। চেহারা দেখে তারা ধারণা করে, নিহতদের একজন হামাসপ্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার হতে পারেন। এরপর লাশের ডিএনএ নমুন সংগ্রহ করে ইসরাইলি রেকর্ডের সাথে মিলিয়ে তারা নিশ্চিত হয় এবং সরকারিভাবে সিনওয়ারকে হত্যার কথা ঘোষণা করে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তিন যোদ্ধার চলাচলের ভিডিও ধরা পড়ে ইসরাইলি ড্রোনের ক্যামেরায়। এরপর তাদের ওপর হামলা চালায় ইসরাইলি ট্যাংক ও ড্রোন। মনে করা হচ্ছে, সঙ্গী দুজন সিনওয়ারের বডিগার্ড ছিলেন। তারা সিনওয়ারকে নিরাপদ রাখতে চেষ্টা করেছেন।

হামলার পর তিনজনের মধ্যে দুজন একটি বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়েন, তৃতীয়জন পৃথক আরেকটি বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন। তারা সবাই আহত ছিলেন বলে দাবি করে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, দুই যোদ্ধার কাছ থেকে আলাদা হয়ে অন্যভবনে প্রবেশ করা যোদ্ধাটিই ছিলেন সিওনওয়ার। এরপর পাশাপাশি দুটি ভবনেই গোলা ছোড়ে ট্যাংক। এ সময় সিনওয়ার দ্বিতীয় তলায় উঠে যান। পদাতিক সেনাদের একটি দল ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে তিনি দুটি গ্রেনেড ছোড়েন, যার একটি বিস্ফোরিত হয় এবং সেনারা পিছু হতে বাধ্য হয়।

তারা ওই ভবনে ড্রোন পাঠিয়ে যে ভিডিও সংগ্রহ করেছে তাতে দেখা গেছে, প্রায় বিধ্বস্ত একটি ভবনে সোফায় বসে আছেন আহত একজন। তার মুখ ফিলিস্তিনি কেফিয়া দিয়ে ঢাকা। ড্রোনটির উদ্দেশ্যে তিনি একটি লাঠি ছুড়ে মারেন। ভিডিওতে তাকে আহত ও দুর্বল মনে হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তিই ছিলেন সিনওয়ার। এরপর আবারো ভবনে ট্যাংকের গোলা ছোড়া হয়। এবং তিনি নিহত হন। পরদিন সকালে সেনারা ভবন দুটিতে প্রবেশ করে তিনটি লাশ দেখতে পায়।

চেহারা দেখে ইয়াহিয়া সিনওয়ার হিসেবে সন্দেহ করার পর গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সদস্যরা তার ডিএনএ স্যাম্পল ও একটি আঙ্গুল কেটে নিয়ে যায় ইসরাইলে। পরে তার লাশও ইসরাইলে নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে আইডিএফের মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ওই ভবনে নিহত একজনের কাছ থেকে রাইফেল ও কিছু মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ার ছিলেন।

সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top