পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ করছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করেছে ইরান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য, সামরিক উত্তেজনা বাড়লে পারমাণবিক স্থাপনার দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ওষুধ হিসেবে এসব ট্যাবলেট দেওয়া হয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার

শনিবার (৭ নভেম্বর) ইরানের এক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ট্যাবলেট বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আয়োডিন বিতরণ করছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আর আস্থা রাখা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করা যায় না। তিনি এই অপরাধ করে বসতে পারেন।’

আয়োডিন ট্যাবলেট পারমাণবিক দুর্ঘটনার সময় ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয় আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থিতে শোষিত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে এসব ট্যাবলেট বিতরণের অর্থ এই নয় যে, তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো জরুরি পরিস্থিতি আসন্ন। এটি মূলত সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে আলোচনা চলছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবার শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়।

ইরানের রাজনৈতিক বিষয়ক এক সাংবাদিক আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে দেশটিতে আরও হামলা চালানো উচিত কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। খুব শিগগিরই জানতে পারবেন।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা সামনে রেখে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জায়েদি বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার বিষয়ে দেশটির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির খবরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top