ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নাহিদের

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় নাহিদ ইসলাম এসব দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁরা গত সাত মাসে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।’

নাহিদ আরও বলেন, দেশে সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, অথচ সাধারণ মানুষ, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এই দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার তাঁর আর নেই।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনায় এবং পরদিন ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাংবাদিককে গুলি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

এনসিপির এই নেতার দাবি, গত নয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১১৩ জন, গণপিটুনিতে ১৮৭ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ৬৩৭ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সরকারের সমালোচনা করায় ২২ জন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, বাজারে সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২১০ টাকা, টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর এলপিজির দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। বেসরকারিভাবে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পরিকল্পনা নেই।

এ সময় সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ ও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন এবং একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ এবং বিতর্কিত সাইবার আইন সংশোধনী প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যা ও অতীতের সব গুম-খুনের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানানো হয়। এসব দাবি আদায়ে আগামী ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর এলাকায় গণবিক্ষোভের ঘোষণা দেন তিনি।

ঢাকার এই কর্মসূচি সফল হওয়ার পর সারা দেশেও গণবিক্ষোভ আয়োজন করা হবে বলে জানান নাহিদ। কর্মসূচিতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top