ক্রীড়া ডেস্ক
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটা দারুণ শুরু করেও মাঝপথে ছন্দ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে লিটন দাসের অর্ধশতকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। আবুধাবিতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৭ রান।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই আফগান বোলারদের চাপে রাখেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও শাদমান ইসলাম। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১২৪ রান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তানজিদ ৭১ বলে ৮৩ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে শাদমান ১১১ বলে ৬৭ রান করেন, মারেন সাতটি চার।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পরও ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের ৩৯ রানের ইনিংসে দল এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে তিন উইকেটে ২২১ রান তুলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু এরপরই হঠাৎ ধস নামে ব্যাটিংয়ে। শূন্য রানে ফেরেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ২৯ রান করে আউট হলে দ্রুত পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। স্কোর দাঁড়ায় ২২৫ রানে পাঁচ উইকেট।
সেখান থেকে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন লিটন দাস। ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে ৮৯ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। মোহাম্মম সেলিমের শিকার হওয়ার আগে চারটি চার হাঁকান তিনি। তার ইনিংসেই তিন শ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। তাকে ফিরিয়ে দেন ইসমত আলম।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় নাইম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাদের সামনে এখন ইনিংস আরও বড় করার সুযোগ। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিং শুরু করবেন এই দুই ব্যাটার। হাতে রয়েছে আর দুই উইকেট, আর এবাদত হোসেনের ব্যাটিংও বাকি।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম। ৭০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইয়ামিন আহমদজাই পেয়েছেন দুটি উইকেট। ইসমত আলমও নিয়েছেন দুটি, ১২.৪ ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টে শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। তবে মাঝের ধসের পর লিটন ও নিচের সারির ব্যাটারদের অবদানে দিন শেষে লড়াইয়ে টিকে আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে নাইম-তাইজুলের ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করবে প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ আর কতটা বাড়ে।




