পিরোজপুরে ব্রিজ ভেঙে আহত ৪, ‎অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা


‎জাকির ফরাজী, পিরোজপুর

‎পিরোজপুরে সরকারি খাল দখলমুক্ত ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে পুরোনো একটি ব্রিজের অংশ ধসে খালে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ব্রিজটি হঠাৎ ধসে পড়ায় তাঁরা অল্পের জন্য দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পান।

‎শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিরোজপুর পৌরসভার পিটিআই-সংলগ্ন বৌদ্ধপাড়া খালের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎আহতরা হলেন—পিরোজপুর পৌরসভার সার্ভেয়ার সুপতি হালদার চঞ্চল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পজেটিভ পিরোজপুরের সাধারণ সম্পাদক ও জিটিভির পিরোজপুর প্রতিনিধি নাঈম তালুকদার, সংগঠনটির সহসভাপতি জুবায়ের আল মামুন এবং সমাজসেবী গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র।

‎জানা গেছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি খাল দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে শনিবার সকাল ৯টা থেকে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে অভিযান শুরু হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে শিকারপুর এলাকার নাপিতখালী খাল, পুলিশলাইন সড়কের কুমারখালী খাল এবং পিটিআই-বৌদ্ধপাড়া সংলগ্ন খালে দখলমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

‎একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পিটিআই-সংলগ্ন বৌদ্ধপাড়া খালের মোহনা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ফেরার সময় খালের ওপর থাকা পুরোনো ব্রিজটি দিয়ে কয়েকজন পার হওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ এর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই চারজন খালে পড়ে আহত হন।

‎ঘটনার সময় জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তারাও ব্রিজটির কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। তবে ব্রিজের অংশ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সরে যেতে সক্ষম হওয়ায় খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হননি।

‎দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

‎স্থানীয়রা জানান, খালের ওপর থাকা পুরোনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে তাঁদের অভিযোগ।

‎দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, পিরোজপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় থাকা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ-কালভার্টগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top