সংসদে আবার বিরোধী দলের ওয়াকআউট

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাসের জন্য উত্থাপনের প্রতিবাদ ওয়াকআউটে জানালেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা।

আজ রবিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

বিরোধীদলীয় বেশ কয়েকজন সদস্য বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। তার ওপর তাদের আলোচনার পর আইনমন্ত্রী তার জবাব দেন।

এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে দিলে তার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। কিন্তু যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্পিকার তার কথা শুনতে অস্বীকৃতি জানান।

তাকে উপেক্ষা করে স্পিকার ভোটের পথে এগোলে বিরোধীদলীয় সদস্যরা একযোগে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

এরপর কণ্ঠভোটে বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।
গত ২৭ আগস্ট ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উঠেছিল। ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিতে এই আইন হচ্ছে।

এর মাধ্যমে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য যোগ্য দাতা নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি বা স্বামী-স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধরন থাকলেও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন এ ব্যবস্থা প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্যান্য পদ্ধতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এসব বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো বিরোধও সৃষ্টি করবে না।
তবে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাবি করছেন, এই বিল ইসলাম বিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top