মহানবী (সা.)-এর আদর্শেই মানবতার কল্যাণ, ভোলায় সিরাতুন্নবী সিম্পোজিয়াম

মোঃ জামাল উদ্দিন, ভোলা

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সীরাত, ত্যাগ-তিতীক্ষা, সংগ্রামমুখর কর্মজীবন ও অনুপম আদর্শ নিয়ে ভোলায় ‘সিরাতুন্নবী (সা.) সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিম্পোজিয়ামে বক্তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বুধবার (২৬ আগস্ট, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি) সকাল সাড়ে নয়টায় ভোলা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা শাখার উদ্যোগে এ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় এবং জেলা আমির মুহাম্মদ জাকির হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শাইখ ড. মো. আব্দুস সামাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শামসুল আলম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার অধ্যাপক ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার সাবেক ডিন ড. মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, ভোলা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম এবং বোরহানউদ্দিন কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও ভোলা ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমান আল জাযীরী।

সিম্পোজিয়ামে বক্তারা মহানবী (সা.)-এর জন্ম থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত ঘটনাবহুল ও সংগ্রামমুখর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নবুয়ত লাভের পর মক্কায় তাঁর ওপর নেমে আসা নির্যাতন-নিপীড়ন, প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্যের পথে অবিচল থাকা, হিজরত, মদিনায় সমাজ বিনির্মাণ এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনন্য ভূমিকার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পুরো জীবনই ত্যাগ, ধৈর্য, সংগ্রাম ও মানবকল্যাণের অনুপম দৃষ্টান্ত।

বক্তারা বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) শুধু আলোচনা বা আনুষ্ঠানিকতা পালনের বিষয় নয়; বরং মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করাই সীরাতের মূল শিক্ষা। তাঁর সততা, আমানতদারি, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, ন্যায়বিচার, নেতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন। উহুদের ময়দানে তাঁর দাঁত মুবারক শহীদ হওয়ার ঘটনা তাঁর সংগ্রামী জীবনের অন্যতম দৃষ্টান্ত। তাই তাঁর জীবন থেকে শুধু আনুষ্ঠানিক কিছু শিক্ষা নয়, বরং ত্যাগ, ধৈর্য, সাহস ও সত্যের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মানুষের প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হয় তার অন্তর থেকে। অন্তর পরিশুদ্ধ হলে মানুষের কথা, চরিত্র ও কর্মেও তার ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটে। আর অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য আল্লাহভীতি, তাকওয়া এবং রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তির চরিত্রের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সুন্দর, নৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের পথ সুগম হয়।

সিম্পোজিয়ামে বক্তারা মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে মানবতার জন্য সর্বজনীন পথনির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাসূল (সা.) মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও কল্যাণের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে জুলুম, বৈষম্য ও অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বক্তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা শুধু মুখের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর জীবনাদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্য দিয়েই সেই ভালোবাসার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ ঘটে। একজন মুমিনের কাছে রাসূল (সা.)-এর ভালোবাসা দুনিয়ার সবকিছুর ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত।

সিম্পোজিয়াম থেকে নতুন প্রজন্মের মাঝে মহানবী (সা.)-এর সীরাত ও চরিত্রের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top