পটুয়াখালীর সন্তান হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়ার বিশ্বজয়

জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়

পবিত্র কোরআনের সুমধুর তিলাওয়াতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কৃতী সন্তান হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন
হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। তার এই অনন্য অর্জনে গর্বিত পটুয়াখালী তথা বাউফলবাসী। আলোকী-চাঁদকাঠি, ধুলিয়ার এই কৃতী সন্তান তাঁর মেধা, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা এবং পবিত্র কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এই বিরল সম্মান।

মক্কার পবিত্র মঞ্চে পটুয়াখালীর সন্তান

বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করা নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ কৃতিত্ব। মক্কার পবিত্র ভূমিতে তাঁর কণ্ঠে কোরআনের তিলাওয়াত বাংলাদেশের মানুষের জন্য বয়ে এনেছে অনন্য গৌরব।

প্রত্যন্ত জনপদ বাউফলের মাটি থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে সেরার স্বীকৃতি অর্জন করেছেন হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করেছে—প্রতিভা, অধ্যবসায়, সঠিক শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা একজন মানুষকে বিশ্বদরবারে নিজের এবং দেশের পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ করে দিতে পারে।

আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার কৃতী শিক্ষার্থী

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একজন কৃতী শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটি দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করছেন মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা।

কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও ইসলামী শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সম্পূর্ণ শারীরিক শাসনমুক্ত প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের শাসনের নামে মারধর বা কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি দেওয়া হয় না। ভালোবাসা, শৃঙ্খলা, নৈতিক শিক্ষা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন মানবিক ও ইতিবাচক শিক্ষাব্যবস্থা তাদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পড়াশোনা ও কোরআন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কঠোরতা নয়, বরং ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়ার আগে হাফেজ কারী আবু রায়হানসহ আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার আরও অনেক শিক্ষার্থী কোরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশ্বজয়ের পাশাপাশি সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।

একই প্রতিষ্ঠান থেকে একের পর এক শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যেরও প্রতিচ্ছবি। কোরআন শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শারীরিক শাস্তিমুক্ত পরিবেশ—এই সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

গর্বিত পটুয়াখালী, গর্বিত বাংলাদেশ

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়ার বিশ্বজয় শুধু তাঁর পরিবার, শিক্ষক কিংবা মাদ্রাসার জন্য নয়—এটি পটুয়াখালী জেলার প্রতিটি মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশের কোরআনপ্রেমী মানুষকে দিয়েছে নতুন আনন্দের বার্তা।

পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে কোরআন শিক্ষা, হিফজ, শুদ্ধ তিলাওয়াত, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধ চর্চায় আরও উৎসাহিত করবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

বাউফলের আলোকী-চাঁদকাঠি, ধুলিয়ার মাটিতে বেড়ে ওঠা সেই কৃতী সন্তান আজ বিশ্বমঞ্চে পটুয়াখালীর গর্ব। তাঁর কণ্ঠে কোরআনের তিলাওয়াত আজ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তাঁর বিজয় তাই শুধু একটি প্রতিযোগিতার ফল নয়; এটি পটুয়াখালী থেকে বাংলাদেশের জন্য উঠে আসা এক গৌরবোজ্জ্বল গল্প।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top