পাবনায় মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত, পুলিশের হস্তক্ষেপে এড়াল সংঘর্ষ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় জুমার নামাজে ইমামতি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে সাঁথিয়া পৌর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর জামে মসজিদে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জুমার নামাজে ইমামতি করতে চাইলে বিএনপি সমর্থকেরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কর্মসূচি চলছিল।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছেন এবং পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

এর প্রতিবাদে বিকেলে সাঁথিয়া পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পরে সন্ধ্যায় পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয় বিএনপি।

রাত পৌনে ৮টার দিকে পৌর বিএনপির কার্যালয় থেকে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হলে পাশের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নেয়। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল করে ফিরে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনার কারণে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় বাজারের কয়েকটি দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করেছিলেন এবং হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার জন্য তারা দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনিসুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। স্থানীয় কিছু কর্মী-সমর্থক বিএনপির রাতের মিছিলের বিরোধিতা করে সেখানে জড়ো হয়েছিল। পুলিশের অনুরোধে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সরে যায়। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান বা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ‘মিছিলকে কেন্দ্র করে তিন রাস্তার মোড়ের দুই পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাঝখানে অবস্থান নেয় এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করে। পরে বিএনপি সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে ফিরে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top