বদলি নেমে বিশ্বকাপ জেতালেন ফেরান, যে কীর্তি শুধু দুইজনের

ক্রীড়া ডেস্ক

শুরুর একাদশে জায়গা হয়নি। বিশ্বকাপের আগের সাত ম্যাচেও পাননি কোনো গোল। অথচ বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সেই ফেরান তোরেসই হয়ে গেলেন স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। তার ১০৬ মিনিটের একমাত্র গোলেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোহারা।

নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পরও আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না স্পেন। একের পর এক আক্রমণ করেও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বাধা পেরোতে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। সমাধান খুঁজতে ৬২ মিনিটে মিকেল ওয়ারসাবালের জায়গায় ফেরানকে নামান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

নির্ধারিত সময়ের যোগ করা অংশে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে এনজো ফার্নান্দেজানি মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে একজন বেশি নিয়ে চাপ আরও বাড়ায় স্পেন। অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পরই আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।

নিকো উইলিয়ামসের হেডে নামানো বল বক্সের মধ্যে পেয়ে যান ফেরান। বাঁ পায়ের জোরালো শটে দিবু মার্তিনেজের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। স্পেনের ২০তম শটে ভাঙে আর্জেন্টিনার প্রতিরোধ। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই নির্ধারণ করে দেয় বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন।

এই গোল ফেরানকে জায়গা দিয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরল একটি তালিকায়। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে বদলি হিসেবে নেমে ফাইনালে গোল করা মাত্র পঞ্চম ফুটবলার তিনি।

প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের ডিক নানিঙ্গা। ১৯৭৮ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতা ফেরালেও তাঁর দল অতিরিক্ত সময়ে হেরে যায়। ১৯৮২ সালে ইতালির আলেসান্দ্রো আলতোবেল্লি এবং ১৯৮৬ সালে পশ্চিম জার্মানির রুডি ফোলার বদলি হিসেবে ফাইনালে গোল করেন।

তালিকার চতুর্থ নাম মারিও গোটজে। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছিলেন জার্মানির এই ফরোয়ার্ড। ১২ বছর পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই গল্পের পুনরাবৃত্তি করলেন ফেরান।

পাঁচ বদলি গোলদাতার মধ্যে শুধু গোটজে ও ফেরানের গোলই সরাসরি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করেছে। আরেকটি কাকতালীয় বিষয়, এই পাঁচজনের চারজনই গোল করেছেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। একমাত্র আলতোবেল্লির প্রতিপক্ষ ছিল পশ্চিম জার্মানি।

ফেরানের গোলটি বার্সেলোনার জন্যও বিশেষ। বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা ক্লাবটির দ্বিতীয় খেলোয়াড় তিনি। প্রথমজন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, যার ১১৬ মিনিটের গোলে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ষোলো বছর পর একই ক্লাবের আরেক খেলোয়াড়ের অতিরিক্ত সময়ের গোলেই এল তাদের দ্বিতীয় শিরোপা।

বিশ্বকাপে ফেরানের শুরুটা ভালো ছিল না। সৌদি আরবের বিপক্ষে তার একটি গোল বাতিল হয়েছিল। এরপর নিয়মিত একাদশেও জায়গা হারান। তবে তার ওপর আস্থা হারাননি দে লা ফুয়েন্তে। নকআউট পর্বে বারবার প্রথম দিকের বদলি হিসেবে ফেরানকেই বেছে নিয়েছেন স্পেন কোচ। সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চটিই বেছে নিলেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

গোটা বিশ্বকাপে ফেরানের প্রথম গোলটিই এখন স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসের অংশ। ইনিয়েস্তার পর দেশের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের গল্পেও তাই অমর হয়ে থাকবেন আরেক বার্সেলোনা তারকা।

এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top