রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক

নাটক, উত্তেজনা, লাল কার্ড, পেনাল্টি আর পাঁচ গোল—বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম সেরা লড়াইয়ে সবকিছুরই দেখা মিলল। ১০ জনের দল নিয়েও দারুণ লড়াই করে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ে শেষ আটে নরওয়ের মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো স্বাগতিক মেক্সিকোকে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে শুরু হয় ম্যাচটি। দিনভর ভারী বৃষ্টি এবং আজতেকা স্টেডিয়ামের আকাশে বজ্রপাতের কারণে ফিফার নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করে খেলা পিছিয়ে দেওয়া হয়। স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে সর্বশেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট না পেরোনো পর্যন্ত খেলা শুরু করা যায় না।

ম্যাচ শুরুর পর প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে শুরুতে গোলের দেখা না মিললেও ৩৬ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

গোলের সূচনা করেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তার কাছ থেকে বল পেয়ে ডেকলান রাইস ডান প্রান্তে থাকা বুকায়ো সাকার কাছে পাস দেন। সাকার দারুণ ক্রস হ্যারি কেইনকে অতিক্রম করে পৌঁছে যায় জুড বেলিংহামের কাছে। ডাইভিং হেডে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।

গোল হজমের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। ৩৮ মিনিটে এলিয়ট অ্যান্ডারসন বল দখল করে হ্যারি কেইনের কাছে পাঠান। কেইনের নিখুঁত পাস থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন বেলিংহাম। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোলে আজতেকা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন তিনি।

তবে মেক্সিকো দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে। ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেস গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। এরপর বিরতির আগে আরও কয়েকবার সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ তা সামলে নেয়।

বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৫৫ মিনিটে। হেসুস গায়ার্দোকে বাজেভাবে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। ফলে বাকি প্রায় ৩৫ মিনিট ১০ জনের দল নিয়েই খেলতে হয় থ্রি লায়ন্সদের।

একজন কম নিয়ে খেললেও আক্রমণের ধার কমায়নি ইংল্যান্ড। ৫৯ মিনিটে বক্সের ভেতর অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় তারা। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন। নিজের ষষ্ঠ গোল করে দলের ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি।

তবে লড়াই ছাড়েনি মেক্সিকোও। ম্যাচের শেষ দিকে বক্সের ভেতর ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করলে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ কর্মকর্তা। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন রাউল হিমেনেস।

শেষ কয়েক মিনিটে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় স্বাগতিকরা। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে ফেললেও শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি। নির্ধারিত সময় ও যোগ করা সময়ের চাপ সামলে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা।

রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে, যারা শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে। অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হলো মেক্সিকোকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top