কাছে গিয়েও হার বাংলাদেশের, টি-টোয়েন্টি সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক

চট্টগ্রামে বড় লক্ষ্য তাড়া করে শেষ পর্যন্ত লড়াই করল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই লড়াই সিরিজ বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট হলো না। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৬/৫ রানের জবাবে বাংলাদেশ থামে ১৮৯ রানে। ৭ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের করে নিল অস্ট্রেলিয়া।

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে দারুণভাবে ঢুকে পড়েছিল বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লে শেষে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। জশ ইংলিসকে ফেরান নাসুম আহমেদ, কুপার কনোলিকে আউট করেন নাহিদ রানা। এরপর অধিনায়ক মিচেল মার্শকেও ২০ রানে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান।

সেই চাপ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলেন ম্যাট রেনশ। একদিকে উইকেট পড়ে গেলেও তিনি ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন, পরে হাত খুলে খেলেন। টিম ডেভিডকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তিনি। ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রান করেন, তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা।

রেনশ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ৮৯ রানে। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৫টি ছক্কা। শুরুর বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ১৯৬/৫ রানে পৌঁছানোর মূল কারিগর তিনিই। শেষ দিকে জোয়েল ডেভিস ৮ বলে অপরাজিত ১৩ রান করে স্কোর আরও বাড়িয়ে দেন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাসুম আহমেদ। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও আবদুল গাফফার সাকলাইন নেন একটি করে উইকেট। তবে মাঝের ও শেষের ওভারগুলোতে রান আটকাতে না পারায় অস্ট্রেলিয়া বড় স্কোর গড়ে ফেলে।

১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ শুরু করেছিল আগ্রাসী ভঙ্গিতে। তানজিদ হাসান ১৫ বলে ৩০ রান করে ঝড় তোলেন। পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ তোলে ৭২ রান, হারায় ১ উইকেট। সেই শুরুতেই মনে হচ্ছিল, রানতাড়া অসম্ভব নয়।

সাইফ হাসান এক প্রান্ত ধরে রেখে খেলছিলেন। তার সঙ্গে সৌম্য সরকার দ্রুত ১৫ রান করেন। পরে পারভেজ হোসেন ইমনও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন। ইমন ২২ বলে ৩৬ রান করেন, তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। সাইফ করেন ৩৩ বলে ৪২ রান।

কিন্তু বাংলাদেশের সমস্যা ছিল নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো। ১২.৫ ওভারে ইমন ফেরার পর ১৩.২ ওভারে সাইফও আউট হন। ১৩০ থেকে ১৩৪, এই চার রানের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটসম্যানকে হারানোই রানতাড়ায় বড় ধাক্কা হয়ে আসে।

তাওহিদ হৃদয় শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেন। অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৩৫ রান। কিন্তু শেষের ওভারগুলোতে প্রয়োজনীয় রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। শামীম হোসেন ৭ রানে ফিরলে চাপ আরও বাড়ে। আবদুল গাফফার সাকলাইন অপরাজিত ১৩ রান করলেও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৮৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে অ্যারন হার্ডি ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। নাথান এলিস, ম্যাট রেনশ, অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস নেন একটি করে উইকেট। স্পেন্সার জনসন খরুচে ছিলেন, তবে অন্য বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন।

এই হারে সিরিজ হার নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হলো স্বাগতিকরা। ব্যাটিংয়ে লড়াই, পাওয়ারপ্লের দুর্দান্ত শুরু এবং হৃদয়ের শেষের চেষ্টা, সবই ছিল। কিন্তু রেনশর বড় ইনিংস আর মাঝের ওভারে উইকেট হারানোর মূল্য দিতে হলো বাংলাদেশকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top