ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখে ছিল ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, সেই দল যারা ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাদের স্বপ্ন ভেঙেছিল। এবার ডালাসে ছয় গোলের রোমাঞ্চে সেই ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করল থমাস তুচেলের দল।
ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ড। প্রথমার্ধে দুই গোল করেন কেইন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে ইংল্যান্ডকে আবার এগিয়ে দেন বেলিংহাম। শেষ দিকে বদলি নেমে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন রাশফোর্ড।
ম্যাচের শুরুতেই চাপ তৈরি করে ইংল্যান্ড। ৮ মিনিটে ননি মাদুয়েকেকে বক্সে ফাউল করেন লুকা মদরিচ। পেনাল্টি নেন কেইন। প্রথম শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ডমিনিক লিভাকোভিচ, কিন্তু গোলরক্ষক আগেভাগে এগিয়ে আসায় পেনাল্টি আবার নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ১১ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
গোলের পরও ম্যাচ একপেশে হয়নি। ক্রোয়েশিয়া ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে। ৩৫ মিনিটে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান মার্টিন বাতুরিনা। পেতার সুচিচের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন তিনি। জর্ডান পিকফোর্ড হাত ছুঁয়েও বল ঠেকাতে পারেননি।
সমতা ফেরার পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে আবার ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন কেইন। ডেকলান রাইসের কর্নারে বক্সে উঠে হেডে গোল করেন বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবারও ফিরে আসে ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের হেড পাস থেকে পেতার মুসা গোল করলে বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
প্রথমার্ধ ছিল গোলের লড়াই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা হলো ইংল্যান্ডের দাপটের গল্প। বিরতির পর মাঠে নেমেই দ্রুত আঘাত করে তুচেলের দল। ৪৭ মিনিটে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন জুড বেলিংহাম। এই গোলেই আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় ইংল্যান্ড।
এরপর কয়েক মিনিট ক্রোয়েশিয়ার ওপর ঝড় তোলে ইংল্যান্ড। লিভাকোভিচ একের পর এক সেভ করে ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে রাখেন। কেইন, গর্ডন, ও’রাইলি—সবার সামনে সুযোগ এসেছিল। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া গোলরক্ষক না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
ক্রোয়েশিয়া অবশ্য পুরোপুরি হাল ছাড়েনি। মদরিচের দিনটা ভালো যায়নি, দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে তুলে নেন জ্লাতকো দালিচ। বদলি হয়ে আসেন মাতেও কোভাচিচ। শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়া চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। মার্কো পাসালিচের শট ঠেকান পিকফোর্ড। কিন্তু ইংল্যান্ডের দ্রুত পাল্টা আক্রমণই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে দেয়।
৮৪ মিনিটের দিকে রাশফোর্ড গোল করে ইংল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন। ডান দিক থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে গোল করেন তিনি। বদলি হিসেবে নেমে তাঁর এই গোল ইংল্যান্ডকে স্বস্তি দেয়, ক্রোয়েশিয়ার ফেরার পথ বন্ধ করে দেয়।
ইংল্যান্ডের জন্য জয়টি শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বড় মানসিক শক্তিও। বড় টুর্নামেন্টে ক্রোয়েশিয়া সব সময় কঠিন প্রতিপক্ষ। ২০১৮ সালের স্মৃতি, মদরিচদের অভিজ্ঞতা, ম্যাচে দুইবার ফিরে আসার মানসিকতা—সব সামলে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত নিজেদের আক্রমণশক্তি দেখিয়েছে।
গ্রুপ ‘এল’-এ দারুণ জয়ে শুরু করল ইংল্যান্ড। সামনে ঘানা ও পানামার ম্যাচ। প্রথম ম্যাচেই ৪ গোল করা তুচেলের দলের জন্য বড় বার্তা—এই বিশ্বকাপে তারা শুধু ফেবারিটের তকমা নিয়ে আসেনি, মাঠেও তার প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।




