বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলে দেশে পশুর অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমধর্মী নামকরণের প্রবণতা দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর পর এবার কক্সবাজারের উখিয়ায় দেখা মিলেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের। তবে এটি কোনো ব্যক্তি নয়, বরং বিশাল আকৃতির একটি মহিষ।
উখিয়ার চৌধুরী এগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা সাদা ও হালকা বাদামি রঙের এই মহিষটির নাম রাখা হয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহিষটির আচরণ ও মেজাজের সঙ্গে মিল রেখেই এমন নামকরণ করা হয়েছে। মহিষটির ওজন প্রায় প্রায় ১১০০ কেজি। দাম হাঁকানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা।
চৌধুরী এগ্রোর ফার্মের ম্যানেজার আজিজুল হক বলেন, মহিষটি স্বভাবে বেশ ক্ষেপাটে। অপছন্দের মানুষ দেখলেই রেগে যায় এবং উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখন মহিষটির রাগ কমাতে দীর্ঘক্ষণ মাথা ও শরীরে ঠান্ডা পানি ঢালতে হয়। এ কারণেই মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘পুতিন’।
তিনি আরও জানান, পরিচিত ও পছন্দের মানুষের সঙ্গে মহিষটি সহজেই মিশে যায়। সাদা ও হালকা বাদামি রঙের মহিষটি অ্যালবিনো (ধলা) জাতের। গত সাত মাস ধরে মহিষটিকে খামারটিতে বিশেষ পরিচর্যায় লালন-পালন করা হচ্ছে।
খামার মালিক জানান, বিশাল আকৃতির এই মহিষটির যত্ন নেওয়া হয় রাজকীয়ভাবে। প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ঘাস, ভুট্টা ও ভুসি খাওয়ানো হয়। দিনে দুইবার গোসল করানো হলেও এর মেজাজ সবসময় চড়া থাকে। এ জন্য খামারের কর্মীরাও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করেন।
উখিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছৈয়দ হোসেন বলেন, চৌধুরী এগ্রো ফার্ম প্রতিবছরই জেলার মধ্যে বড় আকৃতির গরু ও মহিষ লালন-পালন করে। এবারও খামারটিতে বেশ কয়েকটি বড় আকারের পশু প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানির জন্য।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এম খালেকুজ্জামান জানান, কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে খামারের সংখ্যা ৮ হাজার ২৮৭টি। এসব খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু। বিপরীতে এবার চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯২টি পশুর। সে হিসাবে জেলায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ২৪ হাজার ৭৭১টি পশু।




