আদালতে ২ আইনজীবীর সংঘর্ষ-জুতা নিক্ষেপ, শোকজ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বরগুনার পাথরঘাটা চৌকি আদালতে দুই আইনজীবীর মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে আদালত কক্ষে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

এ সময় আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাস কামরায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

জেলা আইনজীবী সমিতি উভয় আইনজীবীকে আদালতের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আদালত কক্ষে কার্যক্রম শুরুর আগে আইনজীবী নাহিদ সুলতানা লাকি ও আইনজীবী মিজানুর রহমান মঞ্জুর মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাহিদ সুলতানা লাকি প্রথমে জুতা নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই জুতাই পুনরায় নাহিদ সুলতানা লাকির দিকে নিক্ষেপ করেন মিজানুর রহমান মঞ্জু।

লাকির অভিযোগ, তার ক্লার্ক মিরাজকে কেন সঙ্গে করে কোর্ট নিয়ে আসেন। মিজানুর রহমান মঞ্জুর বক্তব্য হচ্ছে শহর থেকে ভাড়ার একটি অটোরিকশায় কোর্টে পৌঁছান। একই অটোরিকশায় মিরাজও ছিলেন। ঘটনার সময় আদালত কক্ষে উচ্চস্বরে গালমন্দ করেন  তারা। উপস্থিত অন্য আইনজীবী ও কোর্টের পেশকার দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উভয়পক্ষকে শান্ত করেন। পরে আদালতের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।

এ ঘটনায় আদালত পাড়াজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মিজানুর রহমান মঞ্জু বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি জেলা বার সমিতিকে অবহিত করেছেন।

নাহিদ সুলতানা লাকি বলেছেন- তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানাবেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, পেশাগত পরিবেশে এ ধরনের ঘটনা আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। তারা ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আহ্বান জানান।

পাথরঘাটা উপজেলা আদালতের অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন পাথরঘাটা চৌকি আদালতের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা লাকি বিভিন্ন সময় মানুষকে অপদস্থ করেন। সাবেক ইউএনও মিজানুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ‘সে আমাকে অপদস্থ করেছে’।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা জজ আদালতের পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ঘটনার বিষয়ে পাথরঘাটা আদালত থেকে জানার পরপরই জেলা বারের অ্যাডহক কমিটি সদস্যদের নিয়ে জরুরি আলোচনা করা হয়েছে। উভয় আইনজীবীকে সাময়িকভাবে আদালতের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সাত কর্ম-দিবসের মধ্যে দুজনকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top