বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
পেশাদার খুনি ভাড়া করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ তুলে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করেছেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফা।
সংসদে ফ্লোর নিয়ে মাছুম মোস্তফা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘মাগরিবের আজানের পর আমি সঙ্গীদের নিয়ে একটি ফিলিং স্টেশনের নামাজ পড়ার জায়গায় নামাজ পড়তে যাই। এই মুহূর্তে বিএনপির নামধারী কিছু সন্ত্রাসী আমার গাড়ির ওপর হামলা চালায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার শব্দ শুনে আমার লোকজন এগিয়ে এলে তাদের ওপরও চড়াও হয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আমি যে মসজিদে ছিলাম, তারা সেখানে গিয়ে আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলে, তারা বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা চালায়।
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে পেশাদার কিলার (খুনি) আনা হয়েছিল। মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে ব্যর্থ হয়।’
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন ছিল যে, হয়তো আজ আমার জন্য এই সংসদে শোক প্রস্তাব আনতে হতো এবং আমার রুহের মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করতে হতো।’
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনার মাধ্যমে আমার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমার এলাকার সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা চাই। জনগণ আমাকে জিজ্ঞেস করছে, কী অপরাধে আমার ওপর হামলা হলো? আমি সেই অপরাধের কথা বলতে পারিনি।’
এ সময় স্পিকার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনার কথা শুনলাম। আমি পত্রিকায় দেখেছি যে এই ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
জবাবে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে মাত্র একজন তালিকাভুক্ত আসামি। বাকিরা নিরপরাধ এবং আজ তারা জামিনে মুক্ত হয়েছে। অথচ মূল আসামিরা প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করছে। তিনটার সময় আমার কাছে ফোন এসেছে যে তারা মিটিং করছে। আমি এসপি (পুলিশ সুপার) মহোদয়কে বলেছি যে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আমি আপনার মাধ্যমে নিরাপত্তা চাই এবং প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আপনার সহযোগিতা চাই।’
স্পিকার এ সময় বলেন, ‘ধন্যবাদ, আপনি দয়া করে বসুন। একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সংসদ সদস্যের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সবাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা এতে ব্যথিত। আমাদের সংসদ নেতা (প্রধানমন্ত্রী) পাশেই বসে আছেন। তিনি আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, নয়জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো সংসদ এই বিষয়ে একমত।
সবশেষে স্পিকার বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধীদের ধরার ব্যাপারে মাননীয় মন্ত্রী ইতোমধ্যে আশ্বাস দিয়েছেন। আপনি দয়া করে ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করুন।’ ঢাকা পোস্ট




