ইল্লিইয়িন বনাম নবীন: ২০–২৫ হাজার টাকার পাঞ্জাবির বিপরীতে ৩০০ টাকার পাঞ্জাবি

ডেস্ক রিপোর্ট

পাঞ্জাবির বাজারে মূল্য নির্ধারণ, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির। বুধবার (২৫ মার্চ) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত প্রকাশ করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের পাঞ্জাবির বাজার একদিকে নষ্ট করছে ‘ইল্লিইয়িন’, অন্যদিকে পুরো কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে এগোচ্ছিল ‘নবীন’। ইল্লিইয়িন যেমন আকাশছোঁয়া দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করে পুরো পাঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্রাহকদের জন্য কঠিন করে দিচ্ছিলো বিপরীতে নবীন একদম কমদামে মানানসই পাঞ্জাবি দিচ্ছিলো গ্রাহকদের।

তিনি লেখেন, একটা ফ্রি মার্কেট ইকোনোমিতে এইটাই হয়। আপনি ইল্লিইয়িন কেন অতি দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করবে সেটাও ধরতে পারবেন না, একইভাবে নবীন কেন কমদামে বিক্রি করবে এটাও বলতে পারবেন না। তবে ধরতে যদি হয়, ইল্লিইয়িনকে ধরার গ্রাউন্ড আছে। তারা অযাচিতভাবে উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশী দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করে।

স্ট্যাটাসে আনাস ইবনে মুনির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ইল্লিইয়িন এর মার্কেট বেশ ভালোভাবেই টিকে গেলো। গত বছরেও ওদের হাই রেঞ্জের পাঞ্জাবির দাম ছিলো ৭ থেকে ৮ হাজার। এ বছর তাদের সাকসেসফুল হাইপ পাঞ্জাবির রেঞ্জ নিয়ে যায় ২০-২৫ হাজারে। তারা যদি হাইপ ক্রিয়েট করে বেশী দামে পাঞ্জাবি কেনা জাস্টিফায়েড করতে পারে তো নবীন কেন কম দামে পাঞ্জাবির হাইপ ক্রিয়েট করতে পারবেনা? নবীনের দোষ কোথায়?

ডাকসুর এই নেতা আরও বলেন, দোষ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্রি মার্কেট ইকোনমি সম্পূর্ণভাবে আদর্শিক নয়। এখানে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু এসব গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এই ধরনের প্রভাব মার্কেট কম্পিটিশনকে বিকৃত (market distortion) করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের স্বার্থই ক্ষুণ্ণ হয়। সিন্ডিকেটের ব্যাবসায়ীদের কাছে গ্রাহকদের মজলুম হওয়া ছাড়া আর কোনো অপশন থাকেনা।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে নবীন পাঞ্জাবীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নবীন হাশেমি বলেন, গতকাল থেকে আমাকে বিভিন্ন নম্বর হতে কল করে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। নইলে, ব্যবসা একটা বন্ধ করে দিয়েছি, আরও যেগুলো আছে সেগুলোও বন্ধ করে দেব।

নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, আমি একজন প্রবাসী। করোনার সময় এ দেশে এসে ব্যাবসা শুরু করি। আমাদের টার্গেট হলো ন্যায্য মূল্যে গ্রাহককে ভালো পণ্য সরবরাহ করা। এই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় আমরা গরীব-দু:খী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করি। এখানে প্রতিবন্ধী, হিজড়া সম্প্রদায় এবং মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা লোকজন কাজ করে। ফলে আমাদের যারা সাপ্লায়ার, তারাও কম মূল্যে প্রোডাক্ট দেন। আমরা ৩০০ টাকা মূল্যে পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি করি।

সেদিন পাশের দোকানদার প্রিন্স’র মালিক মাইকেল ও অন্যান্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পুলিশসহ আমাদের দোকানটি বন্ধ করে দেয়। কাস্টমারদের হেনস্তা করে। তারা বলে, এই মার্কেটে চার হাজার ৫০০ টাকার কমে পাঞ্জাবি ও ১৫০০ টাকার কমে পাজামা বিক্রি করা যাবে না। পরে সংবাদ সম্মেলন দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। ডেইলি ক্যাম্পাস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top