শেবাচিমের বিতর্কিত ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌস এখনো বহাল

 

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিতর্কিত ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস এখনো বহাল তবিয়তে। অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি, ডিসপেন্সরী থেকে ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরি, অবৈধ সুবিধা নিয়ে আউটসোর্সিং নিয়োগ সহ নানা কান্ডে আলোচিত ফেরদৌস। তাছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আ.লীগের সেক্রেটারি সাদিক আবদুল্লাহর বিশ্বস্ত লাঠিয়াল হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। জুলাই বিপ্লবের পর ভোল পাল্টে এখন পুরো হাসপাতালের চার্জ নিয়ে টাকা কামাচ্ছেন দু’হাতে। ফেরদৌসের অন্যতম সহযোগী তাইজুল ছিটকে পড়লেও ফেরদৌস এখনো বহাল তবিয়তে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ হাসপাতলের ঔষধ চুরির সময় হাতেনাতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে আটক করে যৌথবাহিনী। এরপরে শেবাচিমের তৎকালীন উপ-পরিচালক ডাঃ সুভাস দাশ কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। যার সূত্র নং ৩২৫৯/০৭। সেখানে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তিতে জেলা আ’লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হস্তক্ষেপে সেসব অভিযোগ গিলে ফেলে ফেরদৌস।

২০২১ সালের আগস্ট মাসে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগ ওঠে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে। তখন তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটি তদন্তকালে ফেরদৌসের সরাসরি সম্পৃক্ততা পেলে বিসিসির তৎকালীন মেয়র সাদিকের হস্তক্ষেপে সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ফেরদৌসের বিরূদ্ধে সকল তথ্য প্রমাণ থাকা সত্তেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়নি।

তছাড়া এসব নানা অপকের্মর প্রেক্ষিতে ওয়ার্ড মাস্টার ফেরদৌসকে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার অন্যত্র বদলীর আদেশ দিলেও সাদিক আবদুল্লাহ তার পিতাকে দিয়ে সেসব বদলি অর্ডার বাতিল করান।

সাদিকের জন্মদিন পালন, বিসিসি নির্বাচনকালীন দিনরাত ডিউটি ফেলে সাদিকের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল ফেরদৌস। অভিযোগ আছে, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা দমনে সাদিক ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের সাথে হামালায় সরাসরি অংশ নেয় ফেরদৌস। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের উপর হামলার ঘটনায়ও সাজ্জাদ সেরনিয়াতাবাতের সাথেই ছিল ফেরদৌস।

আওয়ামী লীগ আমলে সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্টজন পরিচয় দিয়ে সেই প্রভাবে তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দোসর ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস এখনো বহাল তবিয়তে । তাকে দ্রুত চাকরি থেকে অপসারণ করে গ্রেফতারের মাধ্যেমে শাস্তির আওতায় আনার দাবী সচেতন মহলের।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top