মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পূর্বশত্রু জের ধরে উপজেলা বিএনপি নেতা ও যুবদলের কর্মীদের হামলায় দৈনিক নয়া শতাব্দী ও দ্যা ডেইলি পোস্ট’র উপজেলা প্রতিনিধি সিয়াম রহমান হিমেলসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার সুবিদখালী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায়।
এঘটনায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক আহত সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেল ওইদিন রাতে বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা করেন। যৌথবাহিনী গোপন সংবাদের ভিতত্তিতে পূব সুবিদখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি ও যুবদলের ৩ নেতাকে আটক করেছে। গ্রেফতারকতরা হলো- উপজেলা বিএনপির সদস্য মোঃ জনি মুন্সী(৩৬) এবং উপজেলা যুবদলের নেতা মোঃ জাহিদ হাসান ওরফে পরাগ মুন্সি (৪০) ও তার ভাই আসামী সৌরভ মুন্সী (৩৫)।
আহত সাংবাদিক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর উপজেলা বিএনপির সদস্য আটককৃত মোঃ জনি মুন্সী তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আমাকে মালিকানার পার্টনার হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাব দিলে আমি রাজি হইনি। এরপর থেকে তার একান্ত সহযোগী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির এক সদস্য ও তার সহোযোগীরা আমাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি দেয়।
বিষয়টি আমি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানানোসহ মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সেজান জাকিরসহ অন্যান্যরা আমার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়। এর জের হিসেবে গত মঙ্গলবার (৫ আগষ্ট) বিকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তিতে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালীর সংবাদ সংগ্রহকালে র্যালীটি উপজেলা সদর সুবিদখালী বাজার ব্রীজ অতিক্রম কালে সেজান জাকিরসহ ৭/৮ জন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এসময় আমাকে বাঁচাতে কয়েকজন এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালালে আরও ৫-৬ জন আহত হয়।
আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেল বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মামলার প্রধান আসামীসহ ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।




