উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)
ভাঙা সড়ক সংস্কারের দাবিতে জমে থাকা পানিতে মাছ ছেড়ে এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের কয়েকজন যুবক। বুধবার (৩০জুলাই) বরিশাল-বাকেরগঞ্জ-কাঠাতলী-সুবিদখালী-চান্দখালী- বরগুনা মহাসড়কের মির্জাগঞ্জের কলেজ রোড এলাকায় জমে থাকা পানিতে কার্প জাতীয় মাছ ছেড়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খানা-খন্দে ভরা সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য পোস্ট করেন অনেকেই। উপজেলার সুবিদখালী কলেজ রোড এলাকা থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে মাঝে মধ্যে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হলেও টানা বৃষ্টিতে ও ভারী যানবাহ চলাচলে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগ দায়সারা ভাবে সড়ক সংস্কার করলেও তা কয়েক মাসের মধ্যে কাপেটিং উঠে গেছে। এতে দুর্ভোগের পরিমান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
রিকশা চালক মোঃ সত্তার বলেন, এই সড়ক দিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা নিয়মিত চলাচল করে কিন্তু এই সড়কের কোনো উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না। তারমধ্য বেতাগী- সুবিদখালী -পটুয়াখালী সড়কের অবস্থা আরো করুন। উপজেলা থেকে পায়রাগঞ্জ মনোহরখালী পর্যন্ত কোন অটোরিকশা যেতে চায় না। গেলেই বিপদ, রিকশার হয় চাকা বা রিং বাঁকা হয়ে যাবে। যাত্রীরা অতিরিক্ত টাকা দিলেও কোন রিকশা ড্রাইভার যেতে চায় না ওই সড়কে।
সড়কে মাছ ছেড়ে প্রতিবাদী যুবক মোঃ সিয়াম হোসেন ও মেহাম্মাদ জাহিদ হাসান জানান, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল একটি জরুরি সামাজিক সমস্যার প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের করুণ অবস্থা এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ, আর একটু বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে থাকে। ফলে চলাচল যেমন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তেমনি প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরে যাচ্ছে মানুষের প্রাণ।
তারা আরো বলেন, জেলা শহরে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি ও বরগুনা-চান্দখালী- সুবিদখালী – বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের উপজেলা পরিষদ থেকে কলেজ রোড এলাকা পর্যন্ত সড়কে চলাচলে দুর্ভোগের কোন শেষ নেই। যে সড়ক জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করার কথা, সেই সড়কই আজ এক অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি। আর এই অব্যবস্থাপনাকেই ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরতেই আমরা মহাসড়কে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছি। এটি একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ, যার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি—যদি সড়ক সংস্কারে দায়িত্বশীলরা নিরব থাকেন, তবে এই রাস্তাগুলো হয়তো অচিরেই যান চলাচলের বদলে মাছ চাষের উপযুক্ত হয়ে উঠবে। এই প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি এবং জনগণের দুর্ভোগ যেন অবহেলার ছায়ায় ঢাকা পড়ে না যায়।




