উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত সাগরের পিতাকে একটি নতুন অটোমিশুক প্রদান করেছেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। আহত সাগর (২৫) উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের রিকশা চালক আলতাফ হোসেনের ছেলে। এ উপলক্ষে বৃহষ্পতিবার (১৪ নভেম্বর) মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাগরের পিতার নিকট অটোমিশুকটি হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত সাগর ও তার বাবা আলতাফ হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি সিয়াম হোসেন ও গোলাম রব্বানী প্রমুখ।
আহত সাগর ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫ আগস্ট সকালে ঢাকার মিরপুরের সিঙ্গাপুর আবাসিক হোটেলের সামনের সড়কে নাস্তা করার জন্য বের হন সাগর। পরে তিনি ছাত্র-জনতার মিছিলে যুক্ত হন। একপর্যায়ে তিনি মিছিলের সামনের দিকে চলে যান। মিছিলটি মিরপুর-২ মডেল থানার সামনে এলে থানার ছাদ থেকে পুলিশ গুলি ছুড়লে দুটি গুলি এসে লাগে সাগরের বুকের বাম পাশে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় আলোক হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে এক মাস তিন দিন পর তিনি বাড়িতে ফেরেন; কিন্তু এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি তিনি। সাগরদের বসতঘরের জায়গা ছাড়া কোন চাষাবাদের কোন জমি নেই।
সাগরের পিতা আলতাফ হোসেন বলেন, ৫ আগস্ট সাগর গুলিবিদ্ধ হলে হাসপাতাল থেকে ফোন করে বিষয়টি আমাদের জানান। পরে আমার রিকশাটি বিক্রি করে আমার ছেলের চিকিৎসা খরচ চালাই। রিকশাটি বিক্রি করায় আমার আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। আমার ছেলে ঢাকায় সামান্য বেতনে একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত ছিলো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে সাগরের চিকিৎসা ও আর্থিক বিষয় জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তার প্রেক্ষিতে সাগরের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন, মির্জাগঞ্জ এর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। দেশ-বিদেশের অনেক হৃদয়বান ব্যক্তি সাগরের পাশে দাঁড়ায়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতায় সাগরের পরিবারের জন্য একটি উন্নতমানের অটোমিশুক কিনে সাগরের বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।




