নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশাসনিক কাঠামো শক্ত হওয়া জরুরি

 

মোঃ রাজিব হোসেন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাধীন-সার্বভৌম এবং অগাধ সম্ভাবনার একটি দেশ বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ এই ভূখণ্ডটি বারবার বহিঃশত্রুর লোলুপ দৃষ্টির শিকার হয়েছে। এদেশের ভাষা-সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক নানান বিষয়ও তাই বৈচিত্র্যময়। বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের শান্তির মিলনমেলা এখানে। আচার-সংস্কৃতিতে ভিন্ন হলেও জাতীয় স্বার্থে সকলেই এক ও অভিন্ন।

এদেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতায় পরশ্রীকাতর হয়ে অনেক বহিঃশক্তি ছুটে এসেছে এদেশ শাসনের নামে শোষণ ও লুন্ঠন করতে। সর্বশেষ আমরা পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর যাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়েছি ১৯৭১ সালে; কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন যেতে না যেতে গণমানুষের মতিভ্রম কেটে যায়! আমরা ভিনদেশী হায়েনার মুখ থেকে নিজ দেশী হাঙরের মুখে পরলাম! স্বাধীন দেশের শাসকেরা রাতারাতি প্রভু সেজে বসলেন। জনগণের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হলো মারাত্মক ভাবে। রুদ্ধ করা হলো মুক্ত কন্ঠস্বর।

দেশকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য গড়ে তোলা হলো নানান সামরিক বাহিনী, উপ-বাহিনী। আত্মকোন্দলে জাতির ত্রাহি ত্রাহি দশা! রাষ্ট্রীয় সম্পদ হয়ে গেল কতিপয় শাসক শ্রেণীর দুষ্টচক্রের কুক্ষিগত সম্পদ! একদিকে চলছে অবাধ লুটপাট ও সোনার মুকুটের বিলাসীতা অন্যদিকে চলছে লবণ ছাড়া কচুর শাক এবং লঙরখানায় কাড়াকাড়ি করে পাওয়া এক টুকরো রুটি দিয়ে ক্ষুধা নিবারণের লড়াই! লজ্জা নিবারণের জন্য বাসন্তীরা পরিধান করলো মাছ ধরার জাল!
ভিন্নমত দমনে নব্য প্রভুরা পাকবাহিনীকেও হার মানালো! এরপরে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট এদেশের আকাশে নতুন সূর্য উদিত হলো। হারিয়ে গেলো তথাকথিত প্রভুরা! উত্তরসূরীরা অবশ্য ভাগ্যের জোরে টিকে গেছে।

নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সেই উত্তরসূরীরাই আবার এদেশের ভাগ্যবিধাতা সেজে বসলো! পূর্বসূরীদের কাছ থেকে কোনো অভিজ্ঞতাই অর্জন করেনি। হয়ে উঠলো পিতার চেয়েও বড় স্বৈরাচার হয়ে গেল! উন্নয়ন উন্নয়ন জিকির তুলে পরমত নির্মূলের চূড়ান্ত নিকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করলেন। লুটপাটে তার পূর্বসূরীদের নাম মুছে নিজেকে সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত করলেন। আরও মারাত্মক যে কাজটি করলেন তা হলো ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে আগ্রাসী শক্তির সহায়তায় ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন।

এদেশের স্বাধীনচেতা জনগণ এটা মেনে নেয় নি। তাইতো দীর্ঘ ১৬ বছরের অসন্তোষের আগুনকে শক্তি করে স্বৈরাচারকে ভস্ম করে দিয়েছে। আর স্বৈরাচার আশ্রয় নিয়েছে বিদেশী প্রভূর কাছে। এখন বিদেশী প্রভূ আর স্বৈরাচারের মিলিত শক্তি এক হয়েছে এদেশকে শকুনের মতো ছিড়ে খেতে। তাইতো আনসার বাহিনী, রিকশাওয়ালা, গার্মেন্টস কর্মীদের এবং সনাতনীদের দাবি দাওয়া আদায়ের নামে সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচীতে ইন্ধন দেয়া হয়।

এদেশে ঘাপটি মেরে বসে থাকা বিদেশী এজেন্টরা এদেশকে নানাভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে। পাহাড়ে উপজাতিদের অস্ত্র দিচ্ছে মানচিত্র ছেঁড়ার জন্য। লুটপাটের শূন্যতা পূরণের আপ্রাণ চেষ্টা করা সরকারের ঠুনকো কোনো ব্যর্থতাকে হাইলাইট করে প্রচার করছে ‘আগেরটাই ভালো ছিলো’।

বাংলার মুক্তিকামী জনতাকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হতে হবে। প্রশাসনিক বাহিনীকে হতে হবে কঠোর। স্বৈরাচার বিরোধী সকল শক্তিকে একত্রিত হয়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকা অপশক্তিকে গর্ত থেকে টেনে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাটতিকে পূরণের জন্য স্বৈরাচারবিরোধী সকল দলের সমন্বয়ে সেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করা যেতে পারে।

আপনাদের আশেপাশে সন্দেহজনক কোনো কর্মসূচী লক্ষ্য করলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান এবং সহায়তা করুন। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় জনগণের সহায়তা নিতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের নির্মূলের জন্য যৌথবাহিনীর অভিযান জোরদার করতে হবে। দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত সকল ধরনের গণজমায়েতের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। সর্বপরি আমাদের নতুন স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে সকলের কাছ থেকে সবধরনের সহায়তা আশা করছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

(কলাম বিভাগে প্রকাশিত লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।)

লেখক : আহ্বায়ক, দেহেরগতি সমাজ কল্যাণ পরিষদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top