বরিশাল জার্নাল ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাস করতে অভ্যস্ত, কখনোই পরাধীনতা মেনে নেয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশকে নিজেদের পারিবারিক সম্পদে মনে করে বিপরীত মতাদর্শের লোকদের খুন, গুম, অত্যাচার জুলুম নির্যাতন চালিয়ে দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। আল্লাহতালা ছাত্র, যুবক, কিশোর ও শ্রমিকদের মাধ্যমে এই অপশক্তিকে পরাজিত করেছেন।
সোমবার ৫৪ তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা আমির মাওলানা শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সাইফুল্লাহ’র সঞ্চালনায় বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির সাইফুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বরিশাল জেলা সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা এ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মেহেন্দিগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, সাবেক আমির হাফেজ সফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, পৌর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা অলিউল্লাহ, দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের আমির মাষ্টার মোহাম্মদ আলী, চানপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুজ জাহের, আলিমাবাদ ইউনিয়নের সভাপতি মাষ্টার শাহাদাত হোসেন, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা ফয়জুল্লাহ, চরএককরিয়া ইউনিয়নের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী, মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ সেলিম সিকদার, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন সহ নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, একটি মহৎ লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। অথচ বিজয়ের ৫৪ বছর পরেও বাংলাদেশের জনগণের বহুল প্রত্যাশিত সেই স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র আজও দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী মাত্র ৩ বছরের মাথায় দেশের জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়। দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তিই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনা। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলটিই দেশকে বিপথে ঠেলে দেয়। তাই বিজয়ের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বিভক্তির রাজনীতি ও দোষারোপ করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন তাদের দায়িত্ব ছিলো বিভেদের পরিবর্তে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া। কিন্তু তারা সে কাজ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের একক দাবীদার আওয়ামীলীগ প্রকৃত অর্থে বাকশাল গঠন করে দেশকে আরও গভীর সংকট ও ষড়যন্ত্রে আবদ্ধ করে ফেলেছিল।
তিনি মহান বিজয়কে অর্থবহ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা এবং দেশ গড়ার প্রয়োজনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করার আহবান জানান।
আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের মাগফিরাত, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের হেফাজত এবং দেশের মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি




