বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক ভাতার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে নাম ছিল নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের ৯০ বছর বয়সী আব্দুল মজিতের। ফলে জীবিত থেকেও তিনি বঞ্চিত ছিলেন শেষ বয়সের একমাত্র সহায়তা থেকে।
এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ অনলাইন, প্রিন্ট ও মাল্টিমিডিয়ায় ‘জীবিত থেকেও মৃত, ভাতাবঞ্চিত মজিত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পরে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আব্দুল মজিতকে পুনরায় ‘জীবিত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. মাসুল তালুকদার। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া ভুল তথ্যের কারণে তাকে আমরা মৃত তালিকায় নিয়েছিলাম। প্রকৃতপক্ষে তিনি জীবিত ছিলেন। বিষয়টি কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রথম জানতে পারি।
এরপর সমাধানের জন্য কাজ করি। এখন থেকে আব্দুল মজিত নিয়মিত ভাতা পাবেন।’
মাসুল তালুকদার আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে আরো সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা দেওয়ার পরেও আমরা যাচাই করব।
আব্দুল মজিতের পরিবার জানায়, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বয়স্ক ভাতার টাকা পেলেও গত দেড় বছর আগে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান মেলেনি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়ায় কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আব্দুল মজিতের ছেলে মো. জলিল মিয়া বলেন, ‘বাবাকে জীবিত দেখিয়েও সমাধান পাইনি।
সাংবাদিকরা নিউজ করায় সমস্যা সমাধান হয়েছে। আমরা খুব খুশি।’
বৃদ্ধ আব্দুল মজিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এবার ভাতার টাকা পেলে নিজের পছন্দমতো ভালো কিছু খাব।’
এলাকাবাসীও গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদুর রহমান ফকির বলেন, ‘বৃদ্ধ মজিত আমার প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন ধরে তাকে বয়স্ক ভাতার তালিকায় মৃত বানিয়ে রাখা হয়েছিল। অসহায় মানুষের সমস্যা তুলে ধরলে দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়। আব্দুল মজিতের ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, সংবাদ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।’
কালের কণ্ঠ