ভোলা-৪ : বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া

 

চরফ্যাশন প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানান চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া। তিনি বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং দলের দুঃসময়ে চরফ্যাশন বিএনপি ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপির নেতা কর্মীদের যোকোনো সুখ ও দুঃখে পাশে ছিলেন তিনি। অসুস্থ কিংবা রাজনৈতিক কারণে হামলায় শিকার হলে সাধ্য মোতাবেক আর্থিক সহায়তাও করেছেন। অসংখ্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের মৃত্যু, আত্নীয় স্বজনের জানাজা ও দাফনে ছুটে গেছেন প্রতিনিয়ত। অথচ সে সময় বিএনপির কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো মোটেও সহজ ছিল না। ফলে আওয়ামী গুণ্ডাদের হাতে একাধিকবার লাঞ্চিত হয়েছেন, হয়েছেন মামলা ও হামলার শিকার। এর থেকে রেহাই পাননি তার ছেলেরাও।

চরফ্যাশনে আওয়ামী লীগের বড় কোনো মিটিং হলে, তাকে বাসায় থাকতে দেওয়া হতো না। ফ্যাসিবাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ যেদিন চরফ্যাশন সফরে আসেন, তাকে পুলিশ বাসা থেকে ধরে নিয়ে থানায় গারদে আটকে রাখে।

মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া আরও বলেন, তার বিশ্বাস দল, তার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।

তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চরফ্যাশন থানা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৭৯-১৯৮৫), জাতীয়তাবাদী  দল বিএনপির চরফ্যাশন উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক (১৯৮৫-১৯৯১) এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, চরফ্যাশন উপজেলা বিএন পি (১৯৮৮-১৯৯১) , সহ-সভাপতি, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি. (১৯৯২-২০০৮) ছিলেন।

এছাড়া তিনি ১৯৯২ সালে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ভুল বুঝাবুঝির কারণে তা স্থগিত হয় এবং পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তৎকালীন মন্ত্রী মোশারফ হোসেন শাহজাহান ও মেজর অবঃ হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীরবিক্রম তৎকালিন নির্বাচনী জনসভায় তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু মার্কা জটিলতার কারণে তা আর বহাল রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তিতে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ হইতে ২০২৪ এ হাসিনার পতন পর্যন্ত দলীয় সকল কার্যক্রম নিষ্ঠার সাথে পালন করে এসেছেন।

ফ্যাসিবাদের পুরো সময় তিনি দলীয় সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভোলা, বরিশাল ও ঢাকায় বিএনপির সকল সমাবেশ ও প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

২০০৯-এ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার কারণে শিক্ষকতা চাকুরি থেকে অবহতি নেন তিনি। কিন্তু চাকুরিতে বহাল থাকার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও উক্ত পদে তাকে পরবর্তীতে আর বহাল করেনি আওয়ামী লীগ সরকার।

২০১৪ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পুনিরায় অংশ গ্রহণ করেন তিনি৷ তবে বিতর্কীত সেই নির্বাচনে তার জেতা সম্ভব হয়নি।  বর্তমানে চরফ্যাশন উপজেলায় কোনো সাংগঠনিক কমিটি নেই। ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগনের হাতেহাতে পৌছে দিচ্ছেন লিফলেট ও বিএনপির তথা ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ছুটে বেড়াচ্ছেন নিরলস।

এদিকে চরফ্যাশনের রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন একজন অভিজ্ঞ, ত্যাগী, যেকোনো দুর্নীতি, চাঁদাবাজী, মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সদাপ্রতিবাদকারী সাবেক চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের ধানের শীষ প্রতীক দিলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন ফ্যাসিবাদের পুরো সময় তাদের পাশে থাকা চরফ্যাশনের সন্তান, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত, দলের জন্য চাকুরী হারানো, মামলা হামলায় জর্জরিত মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top