উত্তম গোলদার, মির্জাগঞ্জ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আরিফুলের পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি ও তাঁর খোঁজ খবর নিতে ছুটে যান পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ও ঈদ উপহার (খাদ্য সামগ্রী) নিয়ে সোমবার ঈদের দিনে দুপুরে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত আরিফুলের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর পরিবারের ও তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন ইউএনও।
এসময়ে তিনি আরিফুলের পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য উপজেলার মহিষকাটা বাজারে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের একটি দোকানঘর বরাদ্দসহ সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আরিফুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম নিজস্ব অর্থায়নে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় (পঙ্গু) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
গত শনিবার ঈদের দুইদিন আগে চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে আসেন। জানা যায়, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ভ্যানে আতর ও টুপি বিক্রি করতেন আরিফুল ইসলাম (২১)। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন মিরপুরেই। গত বছর ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। এদিন বাঁ পায়ে চারটি গুলি লাগে তাঁর। সেই থেকে বিছানার শুয়ে দিন কাটছে আরিফুলের। আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন, কবে সুস্থ হবেন তিনি।
আরিফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের নতুন শ্রীনগর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে। মুঠোফোনে আরিফুল বলেন, বর্তমানে পায়ে দুটি গুলি রয়েছে। যা অপারেশন করে বের করতে হবে। অন্যের সাহায্য নিয়ে এখন অল্প অল্প হাঁটাচলা করতে পারি। বেশিরভাগ সময় বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৮ জুলাই থেকে মিরপুর গোলচত্বরে ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে শরিক হই। কারফিউয়ের মধ্যে ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হই। মিরপুর আইডিয়াল গার্লস স্কুলের পেছনের গলিতে এসে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতার সঙ্গে একত্র হই। বিকেল ৪টায় আমরা গলি থেকে মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যাই। সেখানে তখন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল। সেনাবাহিনীর সামনেই আমরা মিছিল দিতে থাকি। গোলচত্বর থেকে কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনী চলে যায়। এরপরই ফায়ার সার্ভিস ভবনের ওপর থেকে আমাদের মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মুহূর্তেই সেখানে এক শিশুসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ ১০ বছরের শিশুটিকে আমি তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে চাইলে বাঁ দিক থেকে চারটি গুলি এসে আমার পায়ে লাগে। এর মধ্যে দুটি গুলি পা ছিদ্র হয়ে বের হয়ে যায়। পরে ছাত্ররা অ্যাম্বুলেন্স এনে আমাকে মিরপুর-১১ নম্বর ইসলামিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আগারগাঁও অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছাত্রদের কাছে স্বজনদের মোবাইল নম্বর দিলে বিষয়টি স্বজনদের জানান। এরপর স্বজনেরা হাসপাতালে আসেন।’
এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আরিফুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাঁর খাবারের ওষুধগুলোও কিনে দেওয়া হয়। ঈদের আগে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহযোগীতা করা এবং মহিষকাটা বাজারে তাঁর জন্য একটি দোকানঘর বরাদ্দ ও আরিফুল শারীরিকভাবে সুস্থ হলে স্থায়ী ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে।




