এইচ এম আনিছুর রহমান, মেহেন্দিগঞ্জ
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানায় ছোট ভাইয়ের বসত ঘরের কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছেন আপন বড় ভাই। গত ৩ বছর আগে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে বড় ভাইয়ের বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ থাকায় এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যের একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করে আসছেন ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলী হোসেন সিকদার।
সরেজমিনে গেলে অভিযোগকারী প্রবীণ ( অবসরপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক আলী হোসেন সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ৮-১০ বছর আগে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে গেছি, স্ত্রী মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে, আমার টিনশেডের একটি পুরাতন বসত ঘর আছে। তা বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় আমি সেখানে পাকা ঘর করার জন্য গ্রেডভিমসহ ভিটি তৈরি করলে আমার সহোদর ভাই মেজর (অবঃ) মহসিন সিকদার বাঁধা দেয়।
তিনি বলেন, তার একের পর এক বাধা এবং প্রশাসনের কাছে নালিশি অভিযোগের কারণে ৩বছর পর্যন্ত কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আমি একজন পঙ্গু মানুষ আমাকে বাড়ি ছাড়া করে রেখেছেন দীর্ঘদিন, আমি কখনো মেয়ে এবং ছেলের কাছে থেকে দিন পার করছি। এছাড়াও আমার পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
আলী হোসেন সিকদার আরও বলেন, বর্তমানে আমিসহ আমার পরিবারকে হয়রানিসহ মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
প্রবীণ এই শিক্ষকের মেয়ে ইয়াসমিন বলেন, আমার বাপ-চাচারা ৫ জন, তাদের মধ্যে ৪ জনের ঘর থাকলেও আমার বাবার ঘরটি তুলতে বাধা দেন চাচা আওয়ামী লীগ নেতা মেজর (অবঃ) মহসিন সিকদার। চাচার দামী ঘরের পাশে আমাদের ঘরটি মানাবে না বলেই বাধা প্রদান করেন। আমার বাবা খুবই অসুস্থ, মা বেচে নেই। আমরা তার কোন সেবা করতে পারি না চাচার কারণে।
ইয়াসমিন আরো বলেন, চাচা মহসিন সিকদার দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের এবং প্রশাসনের দাপটে আমার বাবাকে হয়রানি করে আসছেন। একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ করে আমার পঙ্গু বাবাকে হয়রানি করছেন।
শিক্ষক আলী হোসেন এর শ্যালক জহুরুল হক সিকদার বলেন, অন্যায়ভাবে ঘরটি মুল জায়গায় থেকে সরিয়ে অন্যাথায় করতে বলেন মহসিন সিকদার। কোহিনুর বেগম বলেন, মেজর মহসিন সিকদার একাধিক ব্যক্তিকে জমি ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছেন, তার জন্য আমারা আমাদের জমি ঠিকমতো ভোগদখল করতে পারছি না।
এই বিষয়ে মেজর (অবঃ) মহসিন সিকদার বলেন, আমার ভাইয়ের ঘরটি ৬ফুট সরিয়ে করতে বলেছি; কিন্তু তারা আমার কথা না শোনায় প্রশাসনের কাছে নালিশি অভিযোগ করে কাজ বন্ধ রেখেছি। তিনি আরো বলেন বাড়িতে, আমার পৈত্রিক সম্পত্তি ছাড়াও কেনা সম্পত্তি আছে।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে বসত ঘরের কাজ শেষ করতে পারেন।




