ডেস্ক রিপোর্ট
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা। সাম্প্রতিক ধসটিকে কেন্দ্র করে বাজারে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে – কেন টানা দরপতনের এই ধারা চলছে, এবং এর পেছনে কী প্রভাব কাজ করছে। সোমবার স্পট স্বর্ণের দাম ২.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২.৮৬ ডলারে নেমেছে।
এটি টানা নবম দিনের দরপতনের ধারাকে অব্যাহত রাখল। গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা ২ জানুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়। শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য ধাতুর দামেও মন্দার ছাপ পড়েছে।
এপ্রিলের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ৪.৪ শতাংশ কমে ৪,৩৭৫.৬০ ডলারে নেমেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকায় সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে এবং উচ্চ সুদের কারণে স্বর্ণের আকর্ষণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কমেছে।
ইরান সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত হানার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে তারা উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহে হামলা চালাতে পারে। এই খবরের পর এশীয় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি বিবেচনা করে ব্যাপক বিক্রি করেছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের ওপর রয়েছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো অউৎপাদনশীল সম্পদে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাও বাজারকে প্রভাবিত করেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৭ শতাংশ, যা হারের কমানোর সম্ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি।
অন্যান্য ধাতুর বাজার:
- স্পট রুপার দাম ৩.২ শতাংশ কমে ৬৫.৬১ ডলারে
- স্পট প্লাটিনামের দাম ২.৯ শতাংশ কমে ১,৮৬৬.৬৫ ডলারে
- প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১,৩৯৭.২৫ ডলারে
স্বর্ণ ও অন্যান্য ধাতুর দাম এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




