হাদির মৃত্যুর খবরে গভীর রাতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ভাঙচুর

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

জুলাইযোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্র-জনতা। ইনকিলাব মঞ্চ, এনসিপি, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা মটর, কাওরান বাজার এলাকায় রাস্তায় বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাওরান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও আগুন দেয়া হয়।

প্রথম আলোর প্রথমা প্রকশনা অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুই পত্রিকা কার্যালয়ে আগুন জ্বলছিল। ডেইলি স্টারের প্রথম ও দ্বিতীয়তলায় আগুন জ্বলছিল।Print newspaper delivery

সেখানে বেশ কয়েক জন সংবাদকর্মী ও কর্মচারী আটকা পড়ছেন। রাত ১টায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছে।

শাহবাগ অবরোধ, ঢাবিতে শোক মিছিল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্যারিকেড দিয়ে শাহবাগের চারপাশের সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। অবরোধ চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা হাদির হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন। হাদির মৃত্যুর খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাধিক শোক মিছিল বের হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলপাড়া থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। কর্মসূচিতে সংহতি জানান ডাকসুর নেতারাও। শোক মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও’সহ নানা স্লোগান দেন। পরে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে আরেকটি শোক মিছিল টিএসসি থেকে শুরু হয়ে ভিসি চত্বর ঘুরে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘দুই হাজার মানুষের আত্মত্যাগের পরও স্বাধীন দেশে একজন জুলাই যোদ্ধাকে গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছে, এটি মেনে নেয়া যায় না। হাদি ভাই বারবার নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘাতক আগেও অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি জানত, তবু ব্যবস্থা নেয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ সমাবেশে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমীদ আল মুদাসসির চৌধুরীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নয়া দিগন্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top