বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিতের কারণ নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ব্যতিক্রমীভাবে কবিতা উদ্ধৃত করে জবাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে এ ঘটনা ঘটে।
সংসদে আলোচনায় বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘তীব্র জ্বালানি সংকট’ উল্লেখ করা হলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেন। তিনি বলেন, গতকাল মধ্যরাতে একটি নোটিশে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে দেশের জ্বালানি সংকটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাক্টিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—এক বছরের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে।
এর আগে একটি অ্যাডহক কমিটির অধীনে কার্যক্রম চলমান থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার লক্ষ্যে মে মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই নির্বাচন স্থগিত করায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনি দুইটি বিষয় বলেছেন—প্যান্ডেমিক এবং অ্যাক্ট অব গড। কিন্তু আইনে ‘ফর এনি আদার রিজনেবল কজ’ কথাটিও আছে, সেটি তিনি উল্লেখ করেননি।’ এ সময় তিনি একটি কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তুমি সব বোঝো মানি যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি’। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে আইনের ব্যাখ্যা আংশিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বার কাউন্সিল একটি স্বশাসিত ও স্বাধীন সংস্থা হিসেবে নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিতের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক রয়েছে, যা আলোচনায় আসেনি।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বর্তমানে ওই বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, তাদের নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠু রাখতে বার কাউন্সিল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সেই অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।




