ঢাবির মুহসীন হলে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে হল সংসদ ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০ টার দিকে হলের মূল ফটকে হল সংসদের টানানো ব্যানার খুলে ফেলতে যান হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় হল সংসদের নেতাকর্মীরা বাঁধা দিলে ছাত্রদলের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, সোমবার মুহসিন হল সংসদের ব্যানারে হলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মো. জুলহাসকে শাহবাগে মারধোরের ঘটনায় হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রবিন হোসেনকে হামলাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তার ছবি সংবলিত ব্যানার টানানো হয়। এই ব্যানারে জুলহাসের ওপর আক্রমণের ছবি যুক্ত ছিল।

পরবর্তীতে হল ছাত্রদল তা সরিয়ে ফেললে আজ মঙ্গলবার পুনরায় এ ব্যানার টানায় হল সংসদ। পরে ছাত্রদল সেটিও ছিড়ে ফেলে। তৃতীয়বারের মতো হল সংসদের নেতারা আবার ব্যানার টানায়। এ সময় ছাত্রদল ব্যানার খুলতে এলে বাধা দেয় হল সংসদ।  তখন পরিস্থিতি উতপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কথা কাঁটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

এ সময় মুহসীন হলের এক শিবিরকর্মীর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সালমান খান। সালমান খান বলেন, গত কয়েকদিন আগে শাহবাগ থানায় জুলহাস ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে হলগেটে ব্যানার টানানো হয়। আজকে তৃতীয়বারের মতো সেই ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে আমরা তাদের কাছ থেকে ব্যানারটি নেওয়ার চেষ্টা করি। এমন সময়ে হল ছাত্রদল নেতা শাহজালাল বারিসহ অন্যান্যরা আমাকে মাথায় বেশ কয়েকটা কিল-ঘুষি দেয় এবং হাতে আঘাত করে। এতে আমার হাত দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে শাহজালাল বারীকে একাধিকবার কল দিলেও সে কল রিসিভ করেনি। তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে কল দেওয়া হয় হল প্রভোস্ট সিরাজুল ইসলামকে। তবে তিনিও কল রিসিভ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদকে কল দিলে তিনি কল কেটে দেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা একই সঙ্গে সংস্কৃতি সম্পাদককে মেরে কান ফাটিয়ে দেবে। আবার এটার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা বিচার চাইতে গেলে আমাদের শিক্ষার্থীদেরই হামলা করে তারা রক্তাক্ত করবে। এই হলো তাদের চরিত্র। তাহলে কি আমরা আবার সেই ফ্যাসিবাদী আমলের মতো ছাত্রলীগের যে পৈচাশিক যে নির্যাতন সেটিতে ফিরে যাচ্ছি?

তিনি বলেন, আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, এই হামলায় যে দুজন নেতৃত্ব দিয়েছেন অর্থাৎ মুহসিন হলের ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব, তাদের দুইজনেরই ছাত্রত্ব নাই। তারা এখনো বহাল তবিয়তে হলে আছেন। এর মাধ্যমে তারা গেস্টরুম এবং গণরুমকে ফিরিয়ে আনতে চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজর গিফারী ইফাত বলেন, হল সংসদের নামে হল সংসদের কয়েকজন নেতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একাধিক ব্যানার বানিয়েছেন। আমরা বলেছি, অভিযুক্তের নামে তোমরা করো, আমরা উৎসাহ দেবো, বিচার নিশ্চিতে আমরাও তোমাদের সঙ্গে থাকবো। কিন্তু যে না, তার নামে তো তুমি দিতে পারো না। এখানে নামের আগে সন্ত্রাসী আবার ছাত্রদলের নাম জড়ানো হয়ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। এখান থেকে ঘটনার সূত্রপাত। তারা ব্যানার লাগিয়েছে, পরে ব্যানার খুলে ফেলা হয়ছে। সেই ব্যানার কেড়ে নেওয়ার জন্য তারা চার-পাঁচজন ঘিরে ধরে। পরে ব্যানারটা সরিয়ে নেওয়া হয়ছে। সেখানে আমরা মুহসীন হল ছাত্রদল; আমরা যতটুকু পেরেছি, সবাইকে সরিয়ে নিয়েছি।

জাগো নিউজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top