বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
শিক্ষায় নারীদের অগ্রগতির জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা সরকার করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী সমাজ যাতে দেশ গঠনে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, পরিকল্পনা নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করব এবং যারা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব।’
শিক্ষা খাতে বিএনপির আগের সরকারের উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, এর আগে যখন দেশে ছিলাম, দলীয় কারণে, রাজনৈতিক কারণে প্রায় বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রাম, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা সফর করেছি। সে সময় দেখেছি এবং দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে যে এই দেশে আমরা যত পরিকল্পনাই গ্রহণ করি না কেন, এই পরিকল্পনাগুলোকে যদি সফল করতে হয়, দেশের অবস্থার পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে আমাদের পুরো জনসংখ্যার অর্ধেক যারা, তাদের আমরা যদি অবজ্ঞা করি, পেছনে ফেলে রাখি, তাহলে কোনোভাবেই সেটা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে কারণে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন আমরা মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ক্লাস টুয়েলভ (দ্বাদশ শ্রেণি) পর্যন্ত ফ্রি করেছিলাম।’
স্পিকারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের যদি আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে দেশকে আরও দ্রুত সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এবং এটি করার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছিলাম। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া সেটিরও বাস্তবায়নের কাজ আমরা শুরু করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের লক্ষ্য ও গন্তব্য অভিন্ন। তা হলো একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ। আমরা অনেক বিষয়ে দ্বিমত করতে পারি, কিন্তু দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কষ্ট কমাতে আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
এ সময় জ্বালানি সংকট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে সংসদকে আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’




