৩৭ বছর কাশ্মিরের ভোটে জামায়াত

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো জম্মু-কাশ্মিরে বিধানসভার ভোট গ্রহণ হবে। মোট তিন দফায় ভোট শেষ হবে পহেলা অক্টোবর।

কাশ্মিরে এবারের ভোটে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ নিয়ে। টানা ৩৭ বছর ধরে ভোট বর্জন করে আসা জামায়াত এবার বিধান সভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। তবে নিজেদের ব্যানারে নয়, নিষেধাজ্ঞা থাকায় জামায়াতের প্রার্থীরা লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। পাশাপাশি স্বাধীনতাকামী নেতা ইঞ্জিনিয়ার রশিদের আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির সাথে জোট হয়েছে তাদের।

দীর্ঘ ১০ বছর পর উপত্যাকায় হতে যাওয়া বিধানসভার নির্বাচনে মোট ৯০ টি আসনের মধ্যে এই জোট ৪৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০ জন প্রার্থী জামায়াত সমর্থিত।

২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলে পর হতে চলা প্রথম নির্বাচন ঘিরে উপত্যাকায় ব্যপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। জামায়াত ও আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টির জোট বিধানসভার নির্বাচনে চমক দেখাবে বলে দলটির নেতারা আশা করছে।

জম্মু-কাশ্মীরে জামায়াত শেষবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল ১৯৮৭ সালে। সেই ভোটে জামায়াত লড়েছিল মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্টের ব্যানারে। এককভাবে পেয়েছিল ৪টি আসন, যদিও বিধানসভার সেই ভোট এখনো কারচুপির জঘন্যতম নিদর্শন বলে চিহ্নিত। ওই নির্বাচনের পরই কাশ্মিরে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে জন অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে যা সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী আন্দোলনে রুপ নেয়। এরপর জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে নয়া দিল্লি। দলটি এখনো নিষিদ্ধই রয়েছে।

এবার বহু বছর পর জামায়াত নেতারা ভোটের মাঠে নামায় জনগন কিছুটা বিভ্রান্তিতেও পড়েছেন। কারণ ভোটে অংশ নেয়ার অর্থ হচ্ছে কাশ্মিরের ওপর নয়া দিল্লির শাসনকে স্বীকার করে নেয়া। অনেক কাশ্মিরী মনে করছেন, জামায়াতকে ভোটে আনাটা বিজেপির একটি চাল।
আগামী ৮ অক্টোবর ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

সূত্র : আলজাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top