বরিশাল জার্নাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের দাবানল এখনো কমার কোন লক্ষণ নেই। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, মঙ্গলবার সেটি আরো বেড়ে যেতে পারে। কারণ বাতাসের গতি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেলে আগুন দ্রুত ছড়াবে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সপ্তম দিনে দাবানল তা-ব চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটিতে। লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে দাবানলের কারণে। শহরটিতে এক যোগে কয়েকটি স্থানে দাবানল চলছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠা পেলিসাদেস দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ারসার্ভিসের জোর তৎপরতা চলছে; কিন্তু সেটি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বরং আশঙ্কা করা হচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ সান ফার্নান্ডো ভ্যালির দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘণ্টা ১১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বাতাস বইতে পারে মঙ্গলবার থেকে। সেটি হলে আগুণ আরো প্রাণঘাতি হয়ে উঠবে। এর ফলে আরো নতুন নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান দেশটির ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ রোজ শোনেনফিল্ড।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা আসলেই হতবাক করে দেওয়ার মতো। দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসের এলাকার পর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ধনকুবের কী সাধারণ মানুষ- সবার বাড়ি মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। আগুন পুড়েছে অন্তত ১২ হাজার ৩০০ বাড়ি। আর আগুনে এখন পর্যন্ত ১৩৫ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যাকুওয়েদার।
আগুনে সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের দুর্দশাও চরমে পৌঁছেছে। বাড়িঘর হারানোর শোকের মধ্যেই প্রাণ বাঁচাতে এক লাখ মানুষকে উপদ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হলে একই নির্দেশ দেওয়া হতে পারে আরও ৮৭ হাজার লোককে।
আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। আকাশ থেকে ফেলা হচ্ছে পানি ও রাসায়নিক। নানা সরঞ্জাম হাতে মাঠে নেমেছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭১৩ একর জায়গা গ্রাস করা সবচেয়ে ভয়াবহ প্যালিসেইডস দাবানল মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আর ১৪ হাজার ১১৭ একর এলাকায় জ্বলতে থাকা এটন দাবানল নিয়ন্ত্রণে এসেছে ২৭ শতাংশ।




