যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানিদের সহায়তায় সোনা, অর্থ, গৃহপালিত পশু দান করল কাশ্মীরিরা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানিদের সহায়তায় নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতু দান করেছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ ভেড়া বা ছাগলের মতো গৃহপালিত পশুও দান করেছেন। সোমবার এসব সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিয়া মুসলিম বাস করেন। ইরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে।

নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস কাশ্মীরিদের সহায়তা দেওয়ার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছে। একই সঙ্গে নগদ অনুদান পাঠানোর জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

রবিবার দূতাবাসটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ‘আপনাদের দয়া ও মানবতা আমরা কখনো ভুলব না। ধন্যবাদ, ভারত।’ 

ইতিহাসবিদদের মতে, শত শত বছর আগে এই হিমালয় অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচারে ইরানি পণ্ডিতদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে কাশ্মীরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন।

 

২৯ বছর বয়সী ছাত্রী আইমান জেহরা বলেন, ‘শুধু শিয়ারাই নয়, সুন্নি সম্প্রদায়ও সাহায্য করছে। এটি আমাদের ঐক্য এবং ইরানে আমাদের ভাইদের পাশে থাকার প্রমাণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইরান একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র, এ কারণে আমরা তাদের সাহায্য করছি এমন নয়। যখন ফিলিস্তিনিদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল, তখন ইরানই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। দুই দেশই পুরো অঞ্চলটির মালিকানা দাবি করে। ১৯৮৯ সাল থেকে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, চলমান সংঘাতে নয়াদিল্লি এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top