বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
ছয়টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুর। শনিবার সন্ধ্যায় একদল বিক্ষোভকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিংয়ের বাসভবনে ঢুকে পড়তে চেষ্টা চালিয়েছে। পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এনডিটিভি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ সদস্যরা।
এর আগে এদিন সকালে রাজ্য সরকারের তিন মন্ত্রী ও ছয় জন এমএলএ’র বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মণিপুর রাজ্যে আবারো কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট। রাজ্যটিতে ছয়জনের লাশ উদ্ধারের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বেশ কয়েক মাস ধরে এ রাজ্যে জাতিগত উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ধারণা করা হচ্ছে লাশগুলো মেইতেই সম্প্রদায়ের। গত সপ্তাহে জিরিবাম জেলায় মণিপুর পুলিশ ও কুকি বিদ্রোহীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। ওই ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। মণিপুরের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার জিরিবামের একটি নদী থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্য তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে শনিবার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেনাবাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, লাশগুলো উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা বেশ কয়েকজন স্থানীয় রাজনীতিকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। তবে এতে সামান্যই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাজধানী ইম্ফলের সড়ক অবরোধ করে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শহরে কারফিউ জারির ঘোষণা দেয় মণিপুর সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দিনের জন্য মণিপুরের ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার কারণে গত বছর কয়েক মাস মণিপুরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওই সময় সঙ্ঘাতে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ গৃহহীন হন। ওই ঘটনার পর থেকে কয়েক হাজার বাসিন্দা জরুরি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন। চলমান বিরোধের কারণে তাঁরা এখনো নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।




