বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে চান। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার ইরানের নেতৃত্বকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ট্রাম্প আশা করছেন, ইরান আলোচনায় রাজি হবে। যদিও ইরান জানিয়েছে, তারা এমন কোন চিঠি পায়নি।
শুক্রবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছি, আশা করি আপনি আলোচনায় বসবেন, কারণ এটি ইরানের জন্য অনেক ভালো হবে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, অন্য বিকল্প হলো আমাদের কিছু করতে হবে। কারণ, আরেকটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারি না।
ট্রাম্পের চিঠিটি মূলত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উদ্দেশে লেখা। ট্রাম্প এই চিঠি এমন এক সময়ে দিলেন যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবার আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পরিস্থিতি সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে তারা এ ধরণের কোন চিঠি পায়নি।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরান যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকবে ততদিন দেশটির সাথে ইরানের কোন আলোচনা সম্ভব নয়। বার্তাসংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন আমাদের ওপর তাদের সর্বোচ্চ নীতি ও হুমকি অব্যাহত রাখবে ততদিন আমরা তাদের সাথে কোন সরাসরি আলোচনায় যাব না।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর তার সর্বোচ্চ চাপ নীতির আওতায়- বিশেষ করে দেশটির তেল বাণিজ্যের ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
২০১৫ সালে ছয় বিশ^শক্তির সাথে পারমাণবিক চুক্তি করেছিলো ইরান, চুক্তির আওতায় দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত আকারে নামিয়ে এনেছিলো; কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। এরপর ইরান আবার তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়ে দেয়।




