বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
সিন্ধু নদের পানি আটকে দেয়ার সিদ্ধান্তে ভারতকে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি। তিনি বলেছেন, পানি প্রশ্নে কোন ছাড় দেয়া হবে না। শুক্রবার এক রাজনৈতিক সমাবেশে ভুট্টো পরিবারের এই উত্তরাধিকারী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেদের সভ্যতার উত্তরাধীকারী দাবি করলেও এর সতিক্যকারের উত্তরাধিকার পাকিস্তানের মাটিতে রয়েছে। সিন্ধু নদ আমাদের এবং এটি আমাদেরই থাকবে। তিনি ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি পানি না আসে তবে সিন্ধু নদে আপনাদের রক্তের ধারা বইবে।
বিলওয়াল আরো বলেন, পানি চুক্তি নিয়ে নরেন্দ্র মোদিও একতরফা সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জনগন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেউ সহ্য করবে না। আমরা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই, সিন্ধু নদের পানি নিয়ে কোন ডাকাতি সহ্য করা হবে না।
এর আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সিন্ধু নদের পানি বন্ধ করাকে তারা যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করবে। তাই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর করাচিতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এ ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তি সিন্ধু অববাহিকার পানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী- সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীতে ভারি জলাধার বা এ ধরনের প্রকল্প নির্মাণ করতে পারবে না।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পানিবণ্টন-সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বিশ্বব্যাংক। তবে ভারত চুক্তি স্থগিত করার আগে বিশব্ ব্যাংককে কিছুই জানায়নি।
যদিও এ মুহূর্তে সিন্ধু নদের পানি প্রবাহ আটকানোর মতো অবকাঠামো ভারতের নেই। তবে পানির প্রবাহ বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মোদি সরকারের জলশক্তিমন্ত্রী সিআর পাতিল। তিনি এক্সে লিখেছেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে একটি রোপম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। বৈঠকে তিনটি অপশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার স্বল্পকালীন, মধ্যকালীন এবং দীর্ঘকালীন ব্যবস্থার ওপর কাজ করছে যেন পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও না যায়। শিগগিরই নদীর প্রবাহ বন্ধ করতে ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হবে এবং প্রবাহ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
ভারতীয় মন্ত্রী এমন এক সময়ে এই বিবৃতি দিলেন, যখন টানা দ্বিতীয় রাতের মতো কাশ্মির সীমান্তে গোলাগুলি হয়েছে পাকিস্তান ও ভারতের সেনাদের মাঝে। বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবার রাতেও সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্টে গোলাগুলির খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোলাগুলির ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।




